প্রতিবছর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হাওড় এলাকার ফসল রক্ষাবাঁধ ভেঙে বিভিন্ন হাওড়ের বিপুল পরিমাণ ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। এবারও পাহাড়ি ঢলে বিভিন্ন এলাকার বেশকিছু ফসল রক্ষাবাঁধ ভেঙে বিপুল পরিমাণ বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জানা যায়, নেত্রকোনায় নদনদীসহ হাওড়াঞ্চলে ফের পানি বিপৎসীমা ছুঁয়েছে। খালিয়াজুরীর ধনু নদের পানি বিপৎসীমার ৫০ সেমি. নিচে এসে বৃহস্পতিবার রাত থেকে পানি বাড়তে শুরু করে। উজানে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত হওয়ায় শনিবার বিকাল থেকে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। জানা যায়, আগাম পূর্বাভাসের কারণে এ জেলার হাওড়ের প্রায় ৫০ ভাগ ধান কাটা হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কৃষকদের দ্রুত পাকা ধান কাটার পরামর্শ দিচ্ছেন। দ্রুত পাকা ধান কেটে ফেলতে কোনো কোনো এলাকায় ব্যাপক মাইকিং করে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। প্রথম দফায় ২ এপ্রিল উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খালিয়াজুরীর ধনু নদের পানি ৭ থেকে ৮ ফুট বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমায় পৌঁছে যায়। ৩ ও ৪ এপ্রিল কয়েকটি হাওড়ের বেড়িবাঁধের বাইরের অংশ তলিয়ে যায়। এতে শত শত হেক্টর জমির কাঁচা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। বিভিন্ন হাওড়ের বাঁধের অনেক অংশে ফাটল দেখা দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কৃষকদের সমন্বয়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোর সংস্কার কাজ চলছে।
এজন্য নেত্রকোনায় এখন পর্যন্ত কোনো বাঁধ ভেঙে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।
হাওড়াঞ্চলে প্রতিবছরই ফসল রক্ষাবাঁধ ভেঙে বিপুল পরিমাণ ফসলের ক্ষতি হয়। বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বাঁধ নির্মাণে গাফিলতি ও দুর্নীতি হলে স্থানীয় জনগণকে কতটা মাশুল দিতে হয়, এর প্রমাণ বারবার হাওড়ের বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে ব্যাপক ফসলহানির ঘটনা। কাজেই বাঁধ নির্মাণে গাফিলতি ও অনিয়ম কোনোভাবেই বরদাশত করা উচিত নয়। বিশেষ করে হাওড়াঞ্চলের বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত প্রকল্পের কাজে যাতে কোনো ধরনের দুর্নীতি-অনিয়ম না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আগামী দিনে অল্প সময় বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে, অসময়েও বৃষ্টিপাত হতে পারে। এসব কারণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তাণ্ডব আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল। কাজেই এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে হাওড়াঞ্চলের কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও বেড়ে যাবে।
সূত্র: যুগান্তর
E/N