ই-কমার্সের প্রতি গ্রাহকের আস্থার সংকট পুরোপুরি কাটেনি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে প্রতারণার মাধ্যমে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো ৬ হাজার ৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অপরদিকে সরকার উদ্যোগ নিয়ে এ পর্যন্ত গ্রাহকের প্রায় ৫৭ কোটি টাকা ফেরত দিয়েছে। বাকি অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে সময় বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু এতে সাড়া দেয়নি প্রতিষ্ঠানগুলো। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে ই-কমার্সসংক্রান্ত সরকারের টেকনিক্যাল কমিটির বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।
এ প্রসঙ্গে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ই-ক্যাবের সহসভাপতি শাহাবুদ্দিন শিপন যুগান্তরকে জানান, গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার সময় দিয়ে যে সুযোগ সরকার দিয়েছে, এটি গ্রহণ করা উচিত ছিল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে পারত। এখন সরকার তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, সেটি দেখে মন্তব্য করা যাবে। তবে ই-কমার্স খাতের ক্ষতি যেন না হয়, সেটি লক্ষ রাখতে হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণলায়ের হিসাবে কমপক্ষে ৩৫টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের টাকা না দিয়ে আত্মগোপন করেছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে আলাদিনের প্রদীপ, আদিয়ান মার্ট, নিডস, টুয়েন্টিফোর টিকিট ডট, ফাল্গুনি শপ ডটকম, গ্রিন বাংলা, নিরাপদ ডটকম, এহসান গ্রুপ, র্যাপিড ক্যাশ, চলন্তিকা ডটকম, কুইক অনলাইন, ই-লোন অ্যাপ, বাজাজ কালেকশন, এক্সিলেন্ট ওয়ার্ল্ড অ্যাগ্রো ফুড অ্যান্ড কনজ্যুমারস, সুপম প্রোডাক্ট, কিউ ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং ও আরএসটি ওয়ার্ল্ড। এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকদের মধ্যে অনেকে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে পাড়ি দিয়েছেন। কেউ কেউ সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এখন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, সেটি তারা আত্মগোপনে থেকে এবং নিজস্ব সোর্স দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে।
সূত্র: যুগান্তর
E/N