ফরিদগঞ্জ উপজেলায় পান্না আক্তার (১৩) নামে ৮ম শ্রেণীতে পড়ুয়া শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। পরে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে শনিবার (১৯মার্চ) সকালে ময়না তদন্তের জন্য চাঁদপুর মর্গে প্রেরণ করেন।
শুক্রবার রাতে (১৮মার্চ) চরদু:খিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের পুটিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পান্না স্থানীয় মজিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেনির শিক্ষার্থী। এ ব্যাপারে তার মা বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে।
থানায় অপমৃত্যু মামলা সূত্রে জানা গেছে, মজিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেনির শিক্ষার্থী পান্না আক্তার বিদ্যালয়ের বেতন বাবদ এক হাজার ছয়শত বকেয়া ছিল। গত দুইদিন যাবত তা পরিশোধ করার জন্য তার মা হাছিনা বেগমকে বলাবলি করছে।
এদিকে, হাছিনা বেগমের স্বামী সোহেল তালুকদার বাড়িতে না থাকায় তিনি সাংসারিক কাজকর্মের পাশাপাশি অন্যের বাড়িতে ঝি-এর কাজ করে সন্তানদের নিয়ে জীবন-যাপন করছিলেন।
তাই তিনি মেয়ের স্কুলের বকেয়া বেতন দুই/তিন দিন পরে পরিশোধ করবেন বলে মেয়েকে জানান। এ নিয়ে মা-মেয়ের মধ্যে সামান্য কথা কাটাকাটি হয়।
পরে (১৮মার্চ শুক্রবার) শবে বরাতের রাত হওয়ায় তিনি তার ছেলে মাকসুদ আলমকে রাতের নামায পড়ার জন্য স্থানীয় মসজিদে এগিয়ে দিতে যান। এরপর রাত ৮টার দিকে বাড়িতে ফিরে দেখেন তার মেয়ে পান্না আক্তার বসতঘরের আড়ার সাথে গলায় নাইলনের রশি পেঁচিয়ে ফাঁস দিয়ে ঝুলে রয়েছে। এ সময় হাছিনা বেগমের ডাক-চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসে। সংবাদ পেয়ে শুক্রবার রাতে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে
শনিবার(১৯মার্চ) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর মর্গে প্রেরন করেছে। এ ব্যাপারে শুক্রবার রাতেই হাছিনা বেগম বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন।
ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শহীদ হোসেন লাশ উদ্ধার পরবর্তী ময়না তদন্তের জন্য চাঁদপুর মর্গে প্রেরন ও অপমৃত্যু মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।