দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির দিন দিন উন্নতি হচ্ছে। ধারাবাহিকভাবে সংক্রমণ ও মৃত্যু কমছে। একদিনে নতুন করে ৪ হাজার ৬৯২ জনের দেহে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে। আগের দিন এ সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৮৩৮ জন। টানা দুদিন শনাক্ত পাঁচ হাজারের নিচে। এ নিয়ে করোনা শনাক্তের সংখ্যা ১৯ লাখ ১৪ হাজার ৩৫৬ জনে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহের তুলনায় শনাক্ত গত সপ্তাহে ৩৬ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক ও কোভিড ইউনিটের প্রধান ডা. জাকির হোসেন খান স্বাক্ষরিত করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার করোনায় ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সব মিলিয়ে করোনায় এ পর্যন্ত ২৮ হাজার ৮৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগের সপ্তাহের চেয়ে গত সপ্তাহে মৃত্যু মাত্র ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। একদিনে আক্রান্তদের মধ্যে আরও ১৩ হাজার ২৩৭ জন সুস্থ হয়েছেন। এখন পর্যন্ত ১৬ লাখ ৯১ হাজার ৮৯২ জন সুস্থ হয়েছেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় ৮৭৪টি ল্যাবে ৩৪ হাজার ৬৪৯টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ৩৪ হাজার ৬৮৯টি পরীক্ষা করা হয়। এ নিয়ে দেশে করোনার মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৩০ লাখ ২৯ হাজার ৭৮৭টি। সংক্রমণ ও মৃত্যুর পাশাপাশি শনাক্তের হারও কমেছে। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ। রোববার এ হার ছিল ১৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ। আর মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫১ শতাংশ।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত এক সপ্তাহে করোনায় ২৩০ জন মারা গেছেন। আগের সপ্তাহে এ সংখ্যা ছিল ২২৬ জন। গত সপ্তাহে মারা যাওয়াদের মধ্যে ১৩৭ জন করোনার টিকা নেননি। ৯৩ জন টিকা নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে প্রথম ডোজ ২৯ ও দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছিলেন ৬৩ জন। মাত্র একজন নেন বুস্টার ডোজ। গত সপ্তাহে মারা যাওয়াদের মধ্যে ১৫৬ জন উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে আক্রান্ত ছিলেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত রোগীদের মধ্যে ৩ হাজার ৫৭৩ জন ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। যা মোট আক্রান্তের ৭৬ শতাংশের বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ১৯ জনের মধ্যে ১২ জন পুরুষ, সাতজন নারী। তাদের মধ্যে ১৫ জন সরকারি এবং চারজন বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান। ১০ জন ছিলেন ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের তিনজন, ময়মনসিংহ বিভাগের দুজন এবং খুলনা, সিলেট, বরিশাল ও রংপুর বিভাগের একজন করে বাসিন্দা রয়েছেন। তাদের ১৭ জনের বয়স ৬০ বছরের বেশি, একজনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছর ও একজনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ছিল।
বাংলাদেশে ২০২০ সালের ৮ মার্চ করোনার প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে। এ বছর ১২ ফেব্রুয়ারি তা ১৮ লাখ পেরিয়ে যায়। এর আগে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ব্যাপক বিস্তারের মধ্যে গত বছরের ২৮ জুলাই দেশে রেকর্ডসংখ্যক ১৬ হাজার ২৩০ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ২০২০ সালের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গত বছর ৫ ডিসেম্বর করোনায় মোট মৃত্যু ২৮ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর আগে ৫ আগস্ট ও ১০ আগস্ট ২৬৪ জন করে মৃত্যুর খবর আসে। যা মহামারির মধ্যে একদিনের সর্বোচ্চ সংখ্যা।