চাঁদপুরে অসময়ের বৃষ্টিতে আলু চাষিদের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ৪ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার দুপুরে থেকে টানা কয়েক ঘন্টার বৃষ্টিতে অধিকাংশ জমির বীজতলায় পানি জমে গেছে। এতে বড় ধরনের ক্ষতির আসংখ্যায় দুশ্চিন্তা বেড়েছে আলু চাষিদের।
সদর উপজেলার শাহমামুদপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর ব্লকের কৃষক জামাল গাজী ও খোকন গাজী জানান, গত ৩০ নভেম্বর তারা ১১২ শতক জমিতে আলুর আবাদ করেছিলেন। এরপর ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ঘুর্ণিঝড়ে আলুর বিজতলা পানিতে তলিয়ে যায়। তারপর ধার-দেনা করে পুনরায় আলু বিজ লাগান। গতকাল হঠাৎ করে বৃষ্টিতে আলুর বিজতলায় পানি জমে গেছে। এমনিতে আলুর দাম কম, তারপর হঠাৎ বৃষ্টিতে আলুর বিজতলার ক্ষতি। এই ক্ষতি তারে পুষিয়ে উঠতে পারবে কি না তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন কৃষকেরা। এভাবে দু-তিনদিন আলু পানিতে ডুবে থাকলে সব আলু নষ্ট হয়ে যাবে। এতে করে বিপুল ক্ষতিতে পড়তে হবে তাদের।
একই ইউনিয়নের পাশের গ্রামের কৃষক আবুল কালাম বলেন, লাভ-লোকসান যা-ই হোক আলুর আবাদ তাদের প্রধান ফসল। গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবারও তিনি ৩৩ শতক জমিতে আলুর আবাদ করেছেন। কয়েক দিন পর আলু উত্তোলন করার কথা। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টির কারনে এখন বেকায়দায় পড়েছে তারা ।
চাঁদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ নরেশ চন্দ্র দাস জানান, ২০২১-২২ অর্থ বছরের রবি মৌসুমে আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৯ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে। ইতিমধ্য ৭ হাজার ১শ’ ৪০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। তবে ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি এবং ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে দুই দফায় বৃষ্টিপাতের কারনে আলু উৎপাদন কিছুটা বিঘ্ন হবার আশঙ্কা করা যাচ্ছে। এ ব্যাপরে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ চলছে। অচিরেই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাপ নির্ধারণ করা হবে এবং উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করা হবে।