সাম্রাজ্যবাদীদের কুটচালে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা “মোসাদ” দ্বারা জঙ্গীরা পরিপালিত। ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর দখলে নেয়ার জন্য ইসরায়েলী প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ১ জুলাই ইসরায়েলের পার্লামেন্টে ভোটাভুটি হবে। ভোটাভুটির ফল তো নির্ধারিত ! ইসরায়েলের এই আগ্রাসনে ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। এবং নতুন করে অস্তিত্ব বিপন্নের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ফিলিস্তিনিরা বরাবরই প্রতারিত হয়ে আসছে।
১. ভূমধ্যসাগরের পূর্বে ১০,৪২৯ বর্গমাইল ব্যাপি ফিলিস্তিন দেশটি উসমানীয়া খেলাফতের অধীন ছিল এবং ১ম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ বিরোধী ছিল। যুদ্ধ জয়ের জন্য ফিলিস্তিনিদের সহযোগিতা পাওয়ার আশায় ১৯১৭ সালে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লর্ড বেলফোর যুদ্ধে জয়ী হলে এই ভূমিতে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠিত হবে বলে ঘোষণা দেন ; যা ইতিহাসে ” বেলফোর ” ঘোষণা হিসেবে পরিচিত। যুদ্ধ জয়ের পর বৃটেন প্রতারণা করে ইহুদীদের পক্ষাবলম্বন করে। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন ধুলিস্যাত হয়ে যায়।
২ . ফিলিস্তিনিদের স্বপ্নের বুকে শেষ পেরেকটি বিদ্ধ হয় ১৯৪৭ সালের ২৯ নভেম্বর ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। ইঙ্গ – মার্কিনীদের চাপে এদিন জাতিসংঘে ইহুদি রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে ভোট গ্রহণ হয় ———— তাতে ৩৩ টি রাষ্ট্র পক্ষে , ১৩ টি বিপক্ষে, ১০ টি ভোট দানে বিরত থাকে।
জনসংখ্যার ১/৪ হয়েও ইহুদিরা পেল ভূমির ৫৭% আর ফিলিস্তিনীরা পেল ৪৩%। রাষ্ট্রটির উত্তর – পশ্চিম সীমানা ছিল অনির্ধারিত ———- ইহুদীরা বাড়াতে থাকে। জাতিসংঘের মাধ্যমে গঠণ হয়ে যায় একটি অবৈধ ও অযৌক্তিক রাষ্ট্র।
ফিলিস্তিনিরা আজো সে আগুনে জ্বলছে।
৩ . তারও অনেক পরে ফিলিস্তিনীদের অবিসংবাদিত নেতা ইয়াছির আরাফাত এর নেতৃত্বে ১৯৫৮ – ৬০ সালে রাজনৈতিক দল ” ফাতাহ ” গঠন করে ফিলিস্তিনীদের অধিকার আদায় এবং স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম শুরু করেন। তাঁর নেতৃত্বে গঠিত পি এল ও ১৯৭৪ সালে জনগণের একমাত্র বৈধ প্রতিনিধি হিসেবে আরবলীগ সহ বিশ্বের গণতন্ত্রমনা রাষ্ট্র সমূহ দ্বারা স্বীকৃতি লাভ করে। এখানে প্রসংগত বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধর ভূমিকাও স্বীকার্য। তিনি ইয়াসির আরাফাতকে ভাইয়ের মর্যাদা দিয়ে ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে বাংলায় ভাষন দান করেন।
সে যাই হোক ” পি এল ও ” এর নেতৃত্বে ১৯৮৮ সালের ১৫ নভেম্বর ফিলিস্তিনীরা স্বাধীনতা ঘোষণা করে ; যা জাতিসংঘ কতৃক স্বীকৃতি পায়।
এর কিছু দিন পরই ইহুদীরা ইয়াছির আরাফাতকে মূলত গৃহবন্দী করে রাখে। বন্দী অবস্থায়ই তিনি ২০০৪ সালের ১১ নভেম্বর ৭৫ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। সুইডিশ বিজ্ঞানীদের মতে তাঁকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা, ” হয়ে ” থাকতে পারে। কারণ তাঁর হাড়ে ” পোলিনিয়াম ” নামে তেজস্ক্রিয় পদার্থ পাওয়া গেছে স্বাভাবিকের চেয়ে ১৮ গুণ বেশী।
৪ . ফিলিস্তিনীরা মুসলিম হওয়ার কারণেই মূলত ধর্মীয় সংঘাতের শিকার। দেশে দেশে ” নবতর ” ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য জঙ্গিবাহিনী গঠন হয়েছে। ” ইসলাম আজ পরিপূর্ণ ” — নবী করিম (সঃ) কতৃক ঘোষিত হওয়ার পরও আজকাল জঙ্গীরা ইসলামী করণের নামে মানুষ হত্যা করছে।
অথচ তারা ইসরায়েল মূখী হয় না ?
ওসামা বিন লাদেন এর বাড়ি সৌদি আরব। সৌদি আরব থেকে ফিলিস্তিন এবং ইসরায়েল কাছে। আর আফগানিস্তান সৌদি আরব থেকে অনেক দূরে ! আফগানিস্তান একটি মুসলিম রাষ্ট্র। ইসরায়েল না গিয়ে মুসলমানের সন্তান লাদেন আফগানিস্তান গিয়ে৷ ” তালেবান ” সৃষ্টি করে আফগানিস্তানকে দোজখ বানিয়ে দিয়েছে। মার্কিনীদের দ্বারা সৃষ্ট লাদেনকে মার্কিনীদের হাতেই মরতে হয়েছে। জঙ্গীপনায় ইরাক, সিরিয়া, মিশর, লিবিয়া, পাকিস্তান —– প্রভৃতি দেশ আজ নরককুণ্ডে পরিণত হয়েছে। ঈদের নামাজ পড়া অবস্থায় বোমা মেরে মুসল্লীদের হত্যা করে ঐ জঙ্গীরা।
কিন্তু ইসরায়েল যায় না ???
কারণ ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা ” মোসাদ ” দ্বারা এই জঙ্গীরা পরিপালিত। ওরা অতি দূর থেকে সাম্রাজ্যবাদীদের মাধ্যমে জঙ্গীদের অর্থ – অস্ত্র – অন্যান্য লজিস্টিক সাপোর্ট দিচ্ছে। ( নইলে জঙ্গীরা অস্ত্র পায় কোথায়?) অর্থাৎ জঙ্গীরা ইসলামের নামে অতি গভীর থেকে ইহুদিদের স্বার্থ রক্ষা করছে —- একথা বললে নাস্তিক – মুরতাদ ঘোষণা দিয়ে হত্যা করা হয়।
জঙ্গী বাবাজীরা আমাদের মেরো না !
মুসলিম নিধনকারী – নিপীড়নকারী , অত্যাচারী ইহুদী রাষ্ট্রে যাও। মনে রেখো আমাদের মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সঃ) কে এই ইহুদীরাই সবচেয়ে বেশি পীড়া দিয়েছে।
অন্ধ আবেগে অর্থ – ক্ষমতার লোভে মত্ত না হয়ে পাপকার্য থেকে ফিরে এসো বাবারা। ন্যায় ও সত্যের পথে নিজ ধর্মের লোকদের কল্যাণ করো। এ যে মহৎ ও পূণ্যের কাজ।
ফিলিস্তিনীরা যুগের পর যুগ নিজ বাস – ভূমে পরবাসী হয়ে আছে। হে মহান আল্লাহ পাক, মুসলিম উম্মাহকে শুভ বুদ্ধি দান করুন।