পুনীত রাজকুমার হচ্ছেন রাজকুমার পরিবারের ৫ম এবং সবচেয়ে ছোট সন্তান। কর্ণাটক ফিল্ম ইন্ড্রাস্ট্রির সবচেয়ে পারিশ্রমিক নেওয়া অভিনেতা। মারা গেলেন ৪৬ বছর বয়সে। তার পরিবার একটি বিশষ কারনে আলোচিত এবং সম্মানিত। তা হচ্ছে মরণোত্তর চক্ষুদান। ইতিপূর্বে এই পরিবারের পুনীত সহ যে ৩ জন মানুষ মৃত্যু বরন করেছেন তারা সবাই চক্ষুদান করে গিয়েছেন।
তার বাবা ড. রাজকুমার ২০০৬ সালে ৭৬ বছর বয়সে মারা যান, তার মা ২০১৭ সালে ৭৭ বছর বয়সে মৃত্যু বরন করেন আর পুনীত ৪৬ বছর বয়সে। তারা সবাই মরণোত্তর চক্ষুদান করে গিয়েছেন। সাধারনত মৃত ব্যাক্তির ২ টি কর্নিয়া দিয়ে ২ জন মানুষের চক্ষু প্রতিস্থাপন করা হয় কিন্তু পুনীত রাজকুমারের ২ টি কর্নিয়া দিয়ে ৪ জন মানুষের চক্ষু প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। গত ৬ মাস যাবত ৩ জন তরুণ আর ১ জন তরুণী কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের অপেক্ষমান তালিকায় ছিলেন। যাদের সবার বয়স ২০-৩০ বছরের মধ্যে।
পুনীতের কর্নিয়ার বাহিরের অংশ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে ২ জনের চোখে যারা Corneal Dystrophy/Keratoconus রোগে ভুগছিলেন আর এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় Deep Anterior Lamellar Keratoplasty আর ২ জনের চোখে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে কর্নিয়ার ভিতরের অংশ যারা Corneal endothellial Decompensation জনিত সমস্যায় ভুগছিলেন আর এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় Descemets Stripping Endothellial Keratoplasty।শুধু তাই নয় কর্নিয়ার চারিদিকের চোখের সাদা অংশ যেটিকে Limbal Rim বলা হয় সেটি আগে প্রতিস্থাপন করা হতোনা সেটিও এবার ব্যবহার করা হয়েছে বিভিন্ন কেমিক্যাল এবং এসিড নিক্ষেপ জনিত কারনে যাদের limbal stem cell এর ঘাটতি দেখা দেয় তাদের জন্য ব্যবহার উপযোগী করতে।
পুনীত রাজকুমার তার কর্নিয়ার মাধ্যমে অনেক দিন বেঁচে থাকবেন। পুনীত রাজকুমারের চোখে এই পৃথিবী নতুন করে দেখবে ৪ জন তরুন তরুণী সহ আর অনেকে। এক সময় রক্তদান মানে ১ ব্যাগ সম্পূর্ণ রক্ত দান বুঝাতো এখন সেখানে রক্তের বিভিন্ন উপদান দান করা যায়।
আসুন জেনে নিই মরণোত্তর চক্ষুদানের নিয়ম-
১।মৃত্যুর ৬ ঘন্টার মধ্যে কর্নিয়া সংগ্রহ করা উচিৎ। তবে সেটি ৬-১২ ঘন্টার মধ্যেও করা যেতে পারে। শীতকালে কখনো কখনো ১৮-২৪ ঘন্টাও কর্নিয়া ভালো থাকে।
২। সংগৃহীত কর্নিয়া ১৪ দিন পর্যন্ত সংরক্ষন করা যায়।
৩। ধর্মীয় দিক থেকে কোনো বিধি নিষেধ নেই।
৪। জীবিত অবস্থায় মরণোত্তর চক্ষুদানের জন্য নিজের নাম তালিকাভুক্ত করার ব্যবস্থা রয়েছে।
Founder President.