চাঁদপুরে বর্ষার শুরুতে মেঘনার ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। সদর উপজেলার হানারচর ও ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নে এই ভাঙ্গন শুরু হয়।
বুধবার সকালে গিয়ে দেখা গেছে, ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের নদী ভাঙ্গার করুণ দৃশ্য,। একে একে সব কিছু বিলীন হয়ে যাচ্ছে। হানারচরে ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি, বসতঘর, গাছপালাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
কর্তৃপক্ষ বলছে, ভাঙনরোধে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ হাতে নিয়েছেন।

হানারচর এলাকায় দেখা যায়, স্রোত ও নদীর ঢেউয়ে ভাঙছে নদীর পাড়। হানারচর এলাকার গোবিন্দিয়া গ্রাম থেকে আখনের হাট পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙনের তীব্রতা দেখা দিয়েছে। ইতমধ্যে এই এলাকার বিভিন্ন স্থানে ২শ’ থেকে ৩শ’ মিটার জায়গা নদীগর্ভে চলে গেছে।
ওই এলাকায় বসবাসকারী হালদার বাড়ি, সরকার বাড়ি, বেপারী বাড়ি, আখন্দ বাড়ি, দেওয়ান বাড়িসহ অনেক পরিবারের সদস্যরা। ভাঙন আতংকে বসতঘর সরিয়ে নিয়েছে অনেক স্থানীয় লোকজন।
গোবিন্দিয়া গ্রামের বাসিন্দা আ. রহমান জমাদার, মো. জহিরুল ইসলাম, মো. জাহাঙ্গীর, এবিএম তারেক আলম বলেন, ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে বেড়িবাঁধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, বসতঘর, ফসলি জমি, গাছপালাসহ অন্যান্য স্থাপনা। চাঁদপুর শহর থেকে হাইমচর উপজেলা পর্যন্ত মেঘনা নদীর ভাঙনরোধে নদীর পাড়ে ব্লক ও জিও ব্যাগ ভর্তি বালি ফেলা হয়েছে।
কিন্তু অজ্ঞাত কারণবসত আমাদের এই অঞ্চলে কোন কাজ করা হচ্ছে না। গত বর্ষায়ও আমাদের এলাকা নদী ভাঙনে শিকার হয়েছে। তখন উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তার ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে গেছেন। ভাঙন রোধে এখনো পর্যন্ত কোন কাজ করা হয়নি।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান বলেন, মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে চাঁদপুরবাসীকে রক্ষা করতে সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে নদী ভাঙ্গনরোধ করেছে।
চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বাবুল আখতার বলেন, মেঘনার ভাঙন রোধে চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এই সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা ইতমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যক্রম শুরু করা হবে।