কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলায় ডাক্তারের সনদ নেই তবুও পরিবারের সবাই ডাক্তার। বাবা ও তার ৬ ছেলের কারোই ডাক্তারি পাসের সনদ নেই। তারপরও নামের আগে ডাক্তার লেখেন সবাই। ভুল চিকিৎসায় বাবা ও ৬ ছেলেদের মধ্যে সকলেই এর আগে জরিমানা গুনেছেন বহুবার। ড্রাগ লাইসেন্স বিহীন বাবা ছেলেদের ৫টি ফার্মেসীও রয়েছে।
নয় বছরের মেয়ে মিমকে সাথে নিয়ে সামান্য জ্বর ও হাটুর ব্যাথার চিকিৎসার জন্য স্থানীয় ফার্মেসিতে যান মা বিউটি আক্তার। দ্রুত ভালো হয়ে যাওয়ার কথা বলে দুই ধরনের এন্টিবায়োটিক সহ সাত প্রকারের ঔষধ দেন ফার্মেসির মালিক হাবিবুর রহমান। যার মধ্যে বিক্রির অযোগ্য সরকারি ঔষধ ছিল দুই ধরনের। প্রথম ডোজ ঔষধ সেবনের পর সুস্থ হওয়ার বদলে উল্টো অসুস্থ হয়ে পড়েন মিম। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ঔষধের সাইড এফেক্ট হয়েছে বলে জানান কর্মরত চিকিৎসক। সেখানে না রেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় জেলা শহরে। টাকার অভাবে শহরে না যেতে পেরে পার্শ্ববর্তী উপজেলার একটি পরিচিত বে-সরকারি হাসপালে নিয়ে মেয়েকে ভর্তি করান মা বিউটি আক্তার। মেয়েকে সুস্থ করে তুলতে শুরু হয় টাকা জোগাড়ের কাজ। পাড়া প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে ৬৫ হাজার টাকা ধার করে মেয়েকে কিছুটা সুস্থ করতে সক্ষম হলেও আগের মতো আর কথা বলতে পারছেনা মিম। থানায় অভিযোগের কথা বলায় প্রতিদিন শুনতে হচ্ছে হুমকি-ধামকি। নিরূপায় হয়ে এখন আল্লাহর কাছে বিচার দেয়া ছাড়া আর কোনও প্রকার রাস্তা নেই তাদের।
এভাবেই কাঁদতে কাঁদতে ঘটনাটির বিবরণ দেন মা বিউটি আক্তার ও নানা মোবারক হোসেন। ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের বল্লবদী গ্রামে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাবিবুর রহমান তার বাবা খলিলুর রহমান, পাঁচ ভাই সফিউল্লাহ মোল্লা, সোলায়মান মোল্লা, কাইয়ুম মোল্লা, কারি মোল্লা ও হারিছ মোল্লাসহ সকলেই কোনও ধরনের শিক্ষাগত সনদ ছাড়াই নামের আগে লিখছেন ডাঃ। বাবা-ছেলেরা মিলে সাত জনের রয়েছে ৫টি ফার্মেসি। এল.এম.এ.এফ সনদের কথা বললেও সাত জনের কেউ দেখাতে পারেনি সরকারি-বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের কোনো সনদ। এমনকি ড্রাগ লাইসেন্স পর্যন্ত দেখাতে ব্যর্থ হন সকলেই।
দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক পেশার মতো একটি মহৎ পেশায় জড়িয়ে চিকিৎসার নামে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন তারা। এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
E/N