POPULAR BD NEWS
Popular BD News Logo

পুলিশের অবহেলাকে দুষছেন ভুক্তভোগীরা

পপুলার বিডিনিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: অক্টোবর ২০, ২০২১ | সময়: ১:১৬ অপরাহ্ণ

নোয়াখালীর সবচেয়ে বড় ব্যবসাকেন্দ্র চৌমুহনীতে অবস্থিত শ্রীশ্রী রাধামাধব জিউর মন্দির। গত শুক্রবার দুপুরের পর শত শত মানুষ মন্দিরের ফটক ভেঙে ঢুকে নির্বিচারে ভাঙচুর চালায়। এই বিভীষিকাময় ঘটনার সাক্ষী মন্দিরের ব্যবস্থাপক সত্তরোর্ধ্ব অনন্ত কুমার ভৌমিক। ঘটনার চার দিন পরও তাঁর চোখমুখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট।

অনন্ত কুমার ভৌমিক প্রথম আলোকে জানান, আক্রমণকারীরা ভাঙচুরের পাশাপাশি লুটপাটও চালায়। তারা মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া টাকাপয়সা, স্বর্ণালংকার তো নিয়েছেই, পানি তোলার মোটর পর্যন্ত খুলে নিয়ে গেছে।

ওই দিন রাধামাধব জিউর মন্দিরসহ চৌমুহনীতে ১২টি মন্দির ও পূজামণ্ডপে হামলা হয়েছে। ভাঙচুর করা হয়েছে বিভিন্ন দোকানপাট ও বাসাবাড়িতেও। মারা গেছেন দুজন। বেগমগঞ্জ থানার ওসি, চার পুলিশ সদস্যসহ আহত হন অর্ধশতাধিক।

পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারার জন্য পুলিশ ও প্রশাসনকে দুষছেন এখানকার ভুক্তভোগী হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। তাঁরা বলছেন, কুমিল্লার ঘটনার জেরে চাঁদপুরে চারজন নিহত হলো। স্বাভাবিকভাবেই শুক্রবার দুর্গাপূজার শেষ দিন বা বিসর্জনের দিন সর্বত্র বাড়তি প্রস্তুতি রাখার কথা। কিন্তু নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনীতে সেটা ছিল না। দীর্ঘ সময় ধরে হামলা হলেও মন্দির ও মণ্ডপগুলোতে পুলিশ আসে অনেক পরে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে কেবল দুজন করে পুলিশ সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। দুপুর ১২টার মধ্যেই বেশির ভাগ মণ্ডপের বিসর্জন শেষ হওয়ার পরপরই অনেক মণ্ডপ ও মন্দির থেকে পুলিশ সদস্যরা চলে যান।

পাশের জেলা কুমিল্লার একটি হিন্দু মন্দিরে পূজার সময় মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআনের অবমাননা করা হয়েছে—এমন অভিযোগের জেরে এই হামলা হয়। টানা তিন-চার ঘণ্টা হামলা চলে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্র জানায়, এই বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়ে আগের দিন চৌমুহনী চৌরাস্তার দক্ষিণে এখলাসপুরে মাইকিং করা হয়েছিল। চৌরাস্তার পশ্চিমে বাংলাবাজারে পোস্টার সাঁটানো হয়েছিল। জুমার নামাজ শেষে এসব এলাকা ও আশপাশের বিভিন্ন মসজিদ থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল এসে চৌরাস্তায় জড়ো হয়। সেটি চৌমুহনীর দিকে এগোয়। অন্যদিকে চৌমুহনী থেকেও খণ্ড খণ্ড মিছিল বের হয়। পুলিশের মূল নজর ছিল প্রধান ব্যবসাকেন্দ্র চৌমুহনীর ডিবি রোডের দিকে। এখানে বিক্ষোভকারীদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তারা কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে ডিবি রোডের উত্তর ও দক্ষিণ পাশের বিভিন্ন গলি–সড়কে ছড়িয়ে গিয়ে নির্বিচার হামলা চালায় মন্দির ও মণ্ডপগুলোতে। হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বেশির ভাগই ছিল কিশোর ও যুবক।

সূত্র: প্রথম আলো
E/N

পপুলার বিডিনিউজ | বস্তুনিষ্ঠতা প্রকাশে দুরন্ত
কার্যালয়: কেনাকাটা মার্কেট, ৪র্থ তলা, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।
নিউজ ও বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৬-৪৬৯৫০৫ | ইমেইল: newspopular2020@gmail.com

© 2026 পপুলার বিডিনিউজ — অনুমতি ছাড়া লেখা/ছবি/ভিডিও ব্যবহার বেআইনি
প্রিন্ট করুন