কচুয়া উপজেলার গোহট দক্ষিণ ইউনিয়নে অবস্থিত বাচ্ছু কম্পানী ব্রীকফিল্ড সংলগ্ন ইসলামপুর গ্রামের নতুন বাড়ীর অধিবাসী মৃত ওয়াহেদ আলীর ছেলে জামাল হোসেন (৪২) কে এ ব্রীকফিল্ড মালিক পক্ষের কর্মরত বাবুল মিয়া তাকে কিল, ঘুষি, চড়, থাপ্পড় মেরে নাকে মুখে রক্তাক্ত জখমসহ শরিরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি মারধরের আঘাতে মারাত্মক আহত হয়েছে।
দিন মজুর জামাল ও তার স্ত্রীকে নিয়ে সংসারে অশান্তির কোনো অন্তঃনেই। যাহা পাড়া মহল্লায় সকলের মুখে মুখে। ঘটনার বিবরণে আহত জামাল ও স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জামাল হোসেনের ছেলে নিরব (৯) লেখাপড়া ফাঁকি দিয়ে বাড়ির পাশে দোকানে সময় কাটাতে দেখে তাকে পাদুকা নিক্ষেপ করলে সে বাড়িতে চলে যায়। পরক্ষণে ছেলেটির জেঠা দোকানে এসে জামালকে জিজ্ঞেস করে কেনো তাকে মারধর করলি, এ নিয়ে তাদের দু’ভাইয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে বাবুল এসে জামালকে বলে বড় ভাইয়ের সাথে সাবধানে কথা বলার জন্য। জামাল প্রতি উত্তরে বলে আপনি আমাদের কথাকাটাকাটির মধ্যে কেনো এসেছেন, একের পর এক আমার সংসারে অশান্তির আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে যাচ্ছেন, চলে যান এখান থেকে। এ কথার সাথে সাথে বাবুল জামালকে একটি চড় মারে এবং জামাল একটি অশ্লীল ভাষায় গালি দিলে বাবুল আরো ক্ষিপ্ত হয়ে সঙ্গীয় ৭/৮ জন মিলে তাকে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষিসহ শরিরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত ও ফুলা জখমে আহত করে। মার খেয়ে ঘটনার স্থান ত্যাগ করে কাউকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যেতে ভরশা না পাওয়ায় পাশেই এ প্রতিনিধির বাড়িতে চলে আসে জামাল। তার করুণ কাহীনি ও রক্তাক্ত জখম দেখে এ প্রতিনিধি কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে নিয়ে যায় এবং কর্তৃব্যরত ডাক্তার তার অবস্থা লিপিবদ্ধ করে চিকিৎসা পত্রসহ হাসপাতালের ৩৩ নং বেডে ভর্তি দেয়।
জামালের নব্বই বছরের বৃদ্ধ মা আপিয়া বেগম জানান ৬/৭ দিন পূর্বে বউয়ের কাছে কিছু খাবার চাইতে গেলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে মারধরসহ পরনের বস্র খুলে ফেলেছে এবং এর পূর্বেও আরো কয়েকবার মেরেছে জামালের বউ।তিনি আরো জানান,ছেলে জামাল আমার খোঁজ খবর এবং দেখাশুনা করতে চাইলেও বউয়ের জন্য পারছেনা। বৃদ্ধ শাশুড়ীকে মারধর এবং বস্র খুলে ফেলার কথা যানতে চাইলে জামালের স্ত্রী নাছিমা বেগম তা অস্বীকার করে।
এদিকে বাবুলের বক্তব্য নেয়া হলে সে জানান, তার বড় ভাইয়ের সাথে খারাপ আচরন না করার জন্য বাঁধা দিলে সে আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করলে একটি চড় মারার কথা স্বীকার করেছে এবং জামাল তাকেও মারধর করে চোখে ফুলা জখম করেছে বলেও জানান। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জামাল ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং তার পাশানি স্ত্রী নাছিমা বেগম স্বামীকে দেখতেও হাসপাতালেও যায়নি। ঘটনাটি এলাকায় মীমাংসার চেষ্টা চলছে বলে জানাগেছে এবং জীবনের নিরাপর্তা নিয়ে ভুগছে বলে দিনমজুর আহত জামাল হোসেন দাবী করেছে।
E/N