কুমিল্লায় আশ্রাফুল আমিনকে হত্যার প্রধান আসামীসহ গ্রেফতার তিন
কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি মডেল থানাধীন শাহপুর গ্রামের মোঃ আল আমিন এর ছেলে মোঃ আশ্রাফুল আমিন (১৬) ৮ম শ্রেণীর ছাত্র।
করোনাকালে সংসারের হাল ধরতে পড়ালেখার পাশাপাশি অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত।
১৬ সেপ্টেম্বর সন্ধায় অটোচালানো অবস্থায় সে নিখোঁজ হয়। পরদিন সকালে গৌরিপুর দৈয়াপাড়া নোমান সাহেব এর মাছের প্রজেক্ট এর দক্ষিন পাড়ে খালী জায়গায় একটি আম গাছের সাথে পিছমোড়া করে বাধা, মুখে ও নাকে স্কচটেপ দ্বারা মোড়ানো অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়। নিহতের বাবা বাদী হয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর দাউদকান্দি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা দিয়ে হত্যা মামলা করেন। ঘটনার পর থেকেই আসামীরা পলাতক ছিল। উক্ত হত্যার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করে।
উক্ত হত্যাকান্ডের বিষয়টি নজরে আসলে, র্যাব-১১ তদর্ন্ত কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখার সহায়তায় প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে র্যাব ১১ অপরাধীদের সনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এরই ফলশ্রুতিতে ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ইং রাতে র্যাব-১১ এর একটি আভিযানিক
দল ঢাকা, নরসিংদী ও কুমিল্লায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে হত্যাকারী ১। মোঃ সাইদুল ইসলাম (১৯), পিতা- মৃতঃ শফিকুল ইসলাম, সাং- সরকারপুর (মজিদ মার্কেট), থানা-দাউদকান্দি, জেলা- কুমিল্লা’কে কুমিল্লা হতে, ২। কিশোর চন্দ্র সাহা (১৮), পিতা- মন্তুস চন্দ্র সাহা, সাং- বুলিরপাড়, থানা- দাউদকান্দি, জেলা- কুমিল্লা’কে নরসিংদী হতে, ৩।
মোঃ রিফাত হোসেন(১৮), পিতা- মোঃ আব্দুল হালিম, সাং- সাতগাঁও, থানা- চান্দিনা, জেলা- কুমিল্লা’কে গ্রেফতার করতে
সক্ষম হয়।
প্রাথমিক অনুসন্ধান ও গ্রেফতারকৃত আসামী’দেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, তারা তিনজন হত্যার আগের দিন ১৫/০৯/২০২১ ইং তারিখ সন্ধ্যায় বুলিরপাড় মসজিদের মাঠে পরিকল্পনা করে, যে ১টি অটো রিকশা ছিনতাই করতে হবে।
পরিকল্পনার সূত্র থেকে ঘটনার আগের দিন গৌরিপুর বাজার থেকে মোঃ সাইদুল ইসলাম (১৯)একটি স্কচটেপ ক্রয় করে। ঘটনার দিন হত্যায় ব্যবহৃত দড়ি মোঃ সাইদুল ইসলাম (১৯) গৌরিপুর বাজার থেকে ক্রয় করে।
ঘটনার দিন প্রথমে মোঃ সাইদুল ইসলাম(১৯),অটোরিকশা ছিনতাই এর জন্য মোঃ রিফাত হোসেনকে মোবাইলে কল দেয় এবং কিশোরকে তাদের সাথে থাকতে বলে, তখন রিফাত কিশোরকে মোবাইলে কল দিয়ে সন্ধ্যার পরে বুলিরপাড় ব্রিজে আসতে বলে। রিফাত ও কিশোর বুলিরপাড় ব্রীজে একত্রিত হয়ে সাইদুলকে মোবাইলে কল দেয়। মোঃ সাইদুল ইসলাম গৌরিপুরে থাকায় মোঃ রিফাত হোসেন ও কিশোর চন্দ্র সাহা, বুলিরপাড় ব্রিজ থেকে হাসানের অটো নিয়ে মোঃ সাইদুল ইসলাম কে আনতে যায়।
গৌরিপুর থেকে মোঃ সাইদুল ইসলাম কে সাথে নিয়ে মোঃ হাসান এর অটোতে করে কড়িকান্দির দিকে যায়। কড়িকান্দির দিকে ছিনতাই এর জন্য কোন অটো রিকশা না থাকায় তারা পুনরায় গৌরিপুরে চলে আসে। সেখানে ভিকটিম আশ্রাফুল আমিন অটো নিয়ে দাড়িয়ে ছিল। তখন মোঃ সাইদুল ইসলাম গৌরিপুরে দারিয়ে থাকা ভিকটিম আশ্রাফ আমিনকে টার্গেট করে। তারা কিশোর চন্দ্র সাহা (১৮)কে দিয়ে অটো রিকশা ভাড়া করে নদীর পাড়ে নিয়ে যেতে বলে এবং পিছনে পিছনে হাসানের অটোতে করে রিফাত ও সাইদুল নদীর দিকে যায়। নদীর পাড়ে লোকজন থাকায় তারা কাজ করতে না পারায় মোঃ সাইদুল ইসলাম (১৯), কিশোর চন্দ্র সাহা (১৮)কে কল দেয় অটো রিকশাটি নিয়ে দৈয়ারপাড় এলাকায় যেতে বলে। তখন কিশোর তাদের কথা মতে অটোচালককে দৈয়ারপাড় এলাকায় নিয়ে আসে এবং সেখানে রিফাত ও সাইদুল যায়। তখন অটোচালক আশ্রাফ আমিন(১৬), কিশোর চন্দ্র সাহা (১৮)এর কাছে ভাড়া দাবি করলে কিশোর তখন ভাড়ার জন্য রিফাত ও সাইদুলকে ডাকে। তখন রিফাত, সাইদুল ও কিশোর তিনজনই একত্রিত হয়ে প্রথমে সাইদুল চাকুর ভয় দেখিয়ে মুখে হাত দিয়ে অটোচালক আশ্রাফুল আমিন(১৬)কে আমগাছের দিকে নিয়ে যায়।
সেখানে প্রথমে কিশোর আম গাছের সাথে দড়ি দিয়ে অটোচালক আশ্রাফুল আমিন(১৬) এর হাত বাধে, রিফাত দুই পা আম গাছের সাথে বাধে এবং সাইদুল মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে দেয়। অটোচালককে বেধে রেখে তারা অটো রিকশা নিয়ে চলে যেতে চায়। রিফাত অটো রিকশা চালাতে গিয়ে কিছুদুর সামনে গিয়ে, অটো রিকশা নিয়ে পড়ে যায়। তখন তারা অটো রিকশা উঠিয়ে পুনরায় চালু করতে গেলে অটো রিকশায় চার্জ না থাকায় তারা তিনজন অটো রিকশা ফেলে যে যার বাড়ীতে চলে যায়। রাতে রিফাত সাইদুলকে ফোন দেয় তখন সাইদুল বলে আমি সেখানে গিয়েছিলাম এবং দেখতে পাই অটোচালক মারা গেছে।
ঘটনার পরের দিন সকালে রিফাত ঢাকা, কিশোর নরসিংদীতে চলে যায় এবং সাইদুল বাড়িতেই থাকে।
উক্ত বিষয়ে গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি মডেল থানায় হস্তান্তর করা প্রক্রিয়াধীন। হত্যা কারীদের মতো সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
E/N