হাজীগঞ্জে সেই আলোচিত শিক্ষক ফরহাদ হোসেন ৩ লক্ষ টাকা কাবিনে ছাত্রী বিয়ে করার প্রমান মিলেছে ।
তবে ছাত্রী বিয়ে করা সেই শিক্ষক ফরহাদ হোসেন বিদ্যালয়ে এখনো বহাল আছেন। উপজেলার বড়কুল রামকানাই উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে ছাত্রী বিয়ে করা ও আরেক শিক্ষক সে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার উপরে একটি সংবাদ প্রকাশ করে পপুলার বিডিনিউজ।
ফরহাদ হোসেনের এসব অনৈতিক কাজে সহযোগিতা করেন একই বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক ইয়াকুব আলী।
শিক্ষক ইয়াকুব আলীকে উভয় পক্ষের হয়ে ঘটনা ধামাচাপা দিতে বেশ তৎপর দেখা যায়।
গত ৫ দিনে ঘটনার সত্যতা ও প্রমান থাকা সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ।
এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকরাও এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রমান নেই বলে বিষয়টি এড়িয়ে চলছেন। তবে আমাদের এ প্রতিবেদকের কাছে শিক্ষক ফরহাদের ছাত্রী বিয়ে করার ও বিভিন্ন অপর্কমের প্রমান রয়েছে।
বিভিন্ন ফোন কলের সূত্র ধরে ও অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১১ আগষ্ট তিন লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে করেছে বলে শিক্ষক ফরহাদ মোবাইল ফোনে জৈনিক ব্যক্তির সাথে স্বীকার করেন। বিয়ে মেনে নিতে মেয়ের পরিবারের কাছে তার বোন কে পাঠিয়েছে এবং তার প্রথম স্ত্রীকে সে রাজি করিয়েছ। দুই পরিবারের বিপত্তি দেখে ওই ছাত্রী ফাঁস দেওয়ার চেষ্টা করে এবং কয়েকদিন ভাত না খেয়ে থাকে। মেয়ের পরিবারকে জিম্মি করে রেখে সকল পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন ফরহাদ ও ইয়াকুব।
সংবাদ প্রকাশের পর শিক্ষক ফরহাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও বিভিন্ন লোকজনের কাছে এর সত্যতা নেই বলে দাবি করেন। এছাড়াও শিক্ষক ফরহাদ মামলা করবে বলে হুমকি দেয় এবং মিথ্যা প্রচার অব্যাহত রাখে। শিক্ষক ফরহাদের মিথ্যাচার দেখে গত কয়েকদিনে আরো কিছু তথ্য প্রমান সংগ্রহ করা হয়েছে। যেখানে ফরহাদ জৈনিক ব্যক্তির সাথে সকল ঘটনা স্বীকার করেন। সে কথোপকথনের কল রেকর্ড আমাদের হাতে রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বড়কুল রামকানাই উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, এতো কিছু হচ্ছে অথচ আমাদের প্রধান শিক্ষক অন্য শিক্ষকদের সাথে এখনো কোন আলাপ আলোচনা করেনি। এ মুহূর্তে আমাদের করণীয় কি সে ব্যাপারেও প্রধান শিক্ষক আমাদের সাথে আলাপ আলোচনা করতে পারতেন। তাদের জন্য আমাদের সকলের এবং প্রতিষ্ঠানের বদনাম হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার জানান, আমাদের কাছে এখনো কোন অভিযোগ আসেনি। তারপরও আমরা খোঁজ নিয়ে দেখছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এন্নাতলী গ্রামের একজন জানান, তিন সন্তানের জনক ফরহাদ ও ইয়াকুবের ঘটনায় এলাকার মানুষ প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে আছে। প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে এলাকার লোকজন তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলবে। এলাকার জনগন ও অভিবাবকদের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ছাড়া শিক্ষক ফরহাদের কাছ থেকে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া কাগজ উদ্ধার করা সম্ভব নয়। সে কাগজ উদ্ধার করতে পারলেই শিক্ষকের আসল চরিত্র বেরিয়ে আসবে। স্বাক্ষর নেওয়া কাগজের ভয়ে ভুক্তভোগী পরিবার শিক্ষক ফরহাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রধান শিক্ষকের কাছে আমি এর কারন জানতে চেয়েছি। তিনি আমাকে এখনো কিছু জানায়নি।
শিক্ষক ফরহাদ হোসেন বলেন, বিয়ে করার কথাটা মিথ্যা। এ বলে শিক্ষক ফরহাদ সকল বিষয় এড়িয়ে যান।