ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জসহ কয়েকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্ণধারদের গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী; কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কোনো পথ এখনো তৈরি হয়নি। কীভাবে তারা ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন তারও কোনো উদ্যোগ এখনো নেওয়া হয়নি।
তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ‘এই খাতে আস্থা ফেরাতে দোষীদের অবশ্যই শাস্তি দিতে হবে।’ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ বিডিজবসের প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম মাশরুরও মনে করেন, ‘যারা প্রতারণা করেছে, তাদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারলে এই ধরনের প্রতারণা সামনের দিনে ঘটতেই থাকবে।
সর্বশেষ গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে পণ্য ডেলিভারি করতে না পারার কারণে একজন গ্রাহকের মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ইভ্যালির এমডি মোহাম্মদ রাসেল ও তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মোছা. শামীমা নাসরিনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। কাস্টমার ও মার্চেন্টদের কাছে ই-কমার্স প্ল্যাটফরম ইভ্যালির প্রকৃত দেনার পরিমাণ ৫৪৪ কোটি টাকা। দায়ের বিপরীতে তাদের সম্পত্তি, স্থাপনা ও যন্ত্রপাতি মিলিয়ে রয়েছে ১০৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।
এর আগে ই-অরেঞ্জের মালিক সোনিয়া মেহজাবিন, তার স্বামী মাসুকুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষক বনানী থানার ওসি তদন্ত শেখ সোহেল রানা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় ভারতে গ্রেফতার হয়েছেন। এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গ্রাহকের ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ ব্যক্তিরা গ্রেফতার হলেও ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার কারণে এমনিতেই মানুষ আর্থিক সংকটে আছে। তার মধ্যে কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে ই-কমার্সে টাকা দিয়ে এখন নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছে।
সূত্র:দৈনিক ইত্তেফাক
R/N