জেলার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়টি ভৌগলিকভাবে জেলার মধ্যবর্তী স্থান হাজীগঞ্জে স্থাপনের জন্য দিন দিন দাবী জোরালো হয়ে উঠছে। উক্ত দাবীর পক্ষে যে সকল যুক্তি তুলে ধরা হচ্ছে এই জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় সত্যিকার অর্থে শিক্ষার্থীদের জন্য অপরিহার্য্য। মেরিন একাডেমি,মেডিকেল কলেজ,নাসিং ইনিষ্টিটিউটসহ বহ নামী প্রতিষ্ঠানগুলো জেলা শহর কিংবা শরতলীতে ইতিমধ্যে গড়ে উঠেছে।
অন্তত চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়টি হাজীগঞ্জে স্থাপনের দাবী জানিয়েছেন হাজীগঞ্জের রাজনীতিবীদ, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, ছাত্র ও বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ।
ভৌগলিকভাবে জেলা জেলার মধ্যবর্তী স্থান হাজীগঞ্জ। এখানে সড়কপথ, রেলপথ ও নৌ-পথের যোগাযোগ ও যাতায়াতের একেবারে সহজলভ্য। এমনকি কুমিল্লা,লক্ষিপুর,নোয়াখালী জেলার হাজার হাজার মানুষ ব্যবসা বানিজ্যে হাজীগঞ্জমূখী। হাজীগঞ্জ শহর থেকে চর্তুমূখি সড়ক পথ, দুই মুখি রেলপথে দেশের যে কোন প্রান্তে চলাচল একেবারে সহজ হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলার বানিজিক শহর হিসেবে হাজীগঞ্জ পরিচিতি লাভ করেছে। এ ছাড়াও হাজীগঞ্জ নদী ভাঙ্গনের কোন সম্ভাবনা অন্তত শতাব্দীকালে ঘটনার সম্ভবনা নেই।
জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ রোটা. আহসান হাবিব অরুন বলেন, হাজীগঞ্জ উপজেলাটি চাঁদপুর জেলার মধ্যবর্তী স্থানে। এ উপজেলার সাথে ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর সদর, মতলব, কচুয়া, শাহরাস্তি উপজেলাসহ আশে-পাশে কয়েকটি জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। তাছাড়া যেখানে ‘চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়’ হওয়ার কথা, আমরা শুনতেছি সেটি একটি নদী ভাঙ্গন এলাকা।
তিনি আরো বলেন, নদীভাঙ্গন ওই স্থানে ‘চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়’টি নির্মাণ হলে ১৫/২০ বছরের মধ্যেই সেটি নদীগর্ভে বিলিন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যে স্থানে ‘চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়’টি হচ্ছে সেটি একটি চর এলাকা। তাই হাজীগঞ্জে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি হওয়া উচিত।
হাজীগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব সৈয়দ আহমদ খসরু বলেন, ভৌগলিক দিক থেকে হাজীগঞ্জ উপজেলা গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রয়েছে। এখানে ‘চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়’ স্থাপন হলে চাঁদপুর জেলাসহ লক্ষীপুর, নোয়াখালি ও কুমিল্লার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপকৃত হবে। তাছাড়া চাঁদপুরের পশ্চিমাঞ্চলে পদ্মা-মেঘনা নদীর অবস্থান। সেখানে জনপথ নেই। তাই ভৌগলিক অবস্থান ও জনপথের কথা বিবেচনা করে হাজীগঞ্জে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি হওয়া উচিত বলে মনে করি।
হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলহাজ¦ আসফাকুল আলম চৌধুরী বলেন, জেলার মধ্যমনি হলো, হাজীগঞ্জ উপজেলা। এটি যদি হাজীগঞ্জে হয় তাহলে জেলার আরো ৭টি উপজেলাসহ পাশের লক্ষীপুর, নোয়াখালি ও কুমিল্লা জেলার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপকৃত হবে।
হাজীগঞ্জ সরকারি মডেল হাই স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবু ছাইদ বলেন, শিক্ষার জন্য হাজীগঞ্জ একটি উর্বর এলাকা। যদি ‘চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়’ হাজীগঞ্জে হয় তাহলে শিক্ষাক্ষেত্রে হাজীগঞ্জ আরো সমৃদ্ধ হবে এবং পূর্বাঞ্চল, দক্ষিণাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের লোকজন উপকৃত হবে।
হাজীগঞ্জের প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুল আলম চুননু বলেন, চাঁদপুর জেলার প্রাণকেন্দ্র হাজীগঞ্জ। এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হলে চাঁদপুর জেলার সকল উপজেলাসহ কুমিল্লা ও লক্ষ্মীপুর জেলার বেশ কয়েকটি উপজেলার মানুষ উপকৃত হবে। এ সময় তিনি স্থান হিসেবে হাজীগঞ্জের হামিদিয়া জুট মিলস বর্তমানে (হাজীগঞ্জ জুট স্পিনিং মিলস) চিহিৃত করেন। এমনকি হাজীগঞ্জের উপর দিয়ে চলে যাওয়া চাঁদপুর কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে পর্যাপ্ত জমি রয়েছে। এ ছাড়া ধেররা মাঠ যা হাজীগঞ্জ রেল ষ্টেশান ও চাঁদপুর কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়ক ঘিরে রেখেছে এমন পর্যাপ্ত জমিতে এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠাত গড়ে তোলা একেবারে সহজ।
হাজীগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. আবু তাহের বলেন, ভৌগলিক দিক থেকে জেলার মধ্যবর্তী স্থানে হাজীগঞ্জ উপজেলার অবস্থান। এখানে ‘চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়’টি হলে জেলার পাশাপাশি প¦ার্শবতী জেলা ও উপজেলার মানুষ উপকৃত হবে।
হাজীগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপনের জোর দাবী জানিয়ে তিনি আরো বলেন, চাঁদপুরের দক্ষিণ, পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলে তিন নদীর অবস্থান। অর্থ্যাৎ সেখানে কোন জনপথ নেই। আর হাজীগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপন করা হলে চারদিকে যেমন জনপথ রয়েছে, তেমনি সহজ যাতায়াত ব্যবস্থাও রয়েছে।