দরিদ্র মা-বাবার মেয়ে রুমা হারিয়ে গেল চাচা ফরহাদের কারণে। প্রেমের অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে রাখতে অনেক প্রচেষ্ঠা করলেও, মৃত্যুই যেন তার জীবনে শান্তি নিয়ে এল।
বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টায় মতলব দক্ষিণ উপজেলার বদরপুর গ্রামের আব্বাস মিয়াজী বাড়িতে বিষপান করে আত্মহত্যা করে রুমা আক্তার (১৮)। নিহত রুমা ওই এলাকার দিনমজুর আব্দুস সাত্তারের মেয়ে। সে রসুলপুর দাখিল মাদ্রারাসার অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল।
জানা যায়, একই বাড়ির জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে ফরহাদ হোসেন তার চাচা। ফরহাদ দীর্ঘদিন যাবৎ রুমার সাথে জোর করে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে রাখতে অনেক প্রচেষ্ঠা করে। ফরহাদ বিভিন্ন সময় রুমাকে টাকা ও সম্পদের প্রলোভন দেখিয়ে অবৈধ সম্পর্ক জড়িয়ে রাখার চেষ্টা করে। কোরবানির ঈদের পরে রুমা আক্তারের ফুফাতো ভাই মোঃ মাসুদ আলমের সাথে তার বিবাহ কথাবার্তা ঠিক হয়। কিন্তু চাচা ফরহাদের প্রেমের টানে রুমা সে বিয়ে করে রাজী হয়নি। এতে রুমা আক্তার তার চাচা ফরহাদকে বিয়ে করতে বললে সে বিয়ে করতে অস্বীকার করেন এবং রুমাকে মারধর করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রুমা বিষপান করে আত্মহত্যা করে।
রুমা আক্তারের ভাই সাইফল ইসলাম জানান, আমি দিনমজুর এবং আমার বাবা-মা বিভিন্ন বাজারে বাজারে গিয়ে ভিক্ষা করেন। সে সুবাধে আমার বোন রুমা আক্তার একাই বাড়িতে থাকতেন। আমার বোনের সরলতার সুযোগ নিয়ে আমার বাড়ির চাচা ফরহাদ হোসেন তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে।
বিষপান করার পর রুমা আক্তারকে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত বলে ঘোষনা দেন। খবর পেয়ে কচুয়া থানার পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে লাশটি তাদের হেফাজতে নেন এবং মতলব দক্ষিণ থানায় লাশটি হস্তান্তরের ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।