১৩ বছর বয়সে বার্সেলোনায় লিওনেল মেসি যোগ দিয়েছিলেন একটি হোটেলে টিস্যু পেপারে লেখা চুক্তিপত্রে সই করে, ২০০০ সালে। চার বছর পর বার্সার মূল দলের দরজা খুলে যায় তার সামনে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে চুকেবুকে গেল সেই সম্পর্ক। ছিন্ন হলো মায়ার বাঁধন।
জোর গুঞ্জন, বার্সেলোনা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন তিনি ফুটবল, ফ্যাশন, পারফিউম ও প্রণয়ের শহর প্যারিসে। বন্ধু নেইমারের সঙ্গে আবার জুটি বাঁধবেন, এবার পিএসজিতে। ন্যুক্যাম্পে পড়ে থাকবে তার স্মৃতি। বন্ধুদের সঙ্গে তুমুল আড্ডা ভাঙার পর যেমন নিঃসঙ্গতা কিছুক্ষণ ছড়িয়ে থাকে।
কাল স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় (বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪টায়) বার্সার সংবাদ সম্মেলন কক্ষে প্রবেশ করেই কিছু বলার আগে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের দুচোখে প্লাবন। মাস্ক খুলে চোখ মোছার চেষ্টা করেন। কোনো দরকার ছিল না। বিদায়বেলায় চোখের আশপাশে অশ্রুই সবচেয়ে সুন্দও অলংকার।
এমন বিদায় মেসি চাননি। কে-ই বা চাইবে। তাই তো তার উচ্চারিত প্রতিটি শব্দে অনুরণিত হলো বেদনার কাব্য। সন্ধ্যেবেলায় পাখিরা নীড়ে ফেরে। আর মেসি কি না সাঁঝবেলায় ঘর ছাড়লেন। বার্সা তার ঘরের চাইতেও বেশি কিছু। কৈশোরে বাবার হাত ধরে যখন স্পেনে আসেন, হরমোন রোগে ভুগছিলেন।
শঙ্কা ছিল এই রোগ তাকে খর্বকায় না করে তোলে, ফুটবল খেলা দূরের কথা। বার্সেলোনা তার সব দায়িত্ব নেয়। হরমোনের চিকিৎসারও। চার বছর পর বার্সার সিনিয়র দলে অভিষেক। রোনালদিনহোর স্নেহের ছায়ায়, জাভি-ইনিয়েস্তার সান্নিধ্যে ক্রমশ পুষ্পিত হন মেসি। বাকিটা ইতিহাস।
H/N