আমেরিকান সংস্থা USAID নিয়ন্ত্রণাধীন সূর্যের হাসি ক্লিনিক হাজিগঞ্জ বাজার শাখায় জালিয়াতির ঘটনা ঘটছে।
হাজীগঞ্জ পৌরসভার রান্ধুনীমুড়া গ্রামের নুসরাত জাহান নামে এক নারীকে জরায়ু ক্যান্সার প্রতিরোধক ভ্যাকসিন দেয়ার কথা বলে পাঁচ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে। এ ঘটনার মূল হোতা সূর্যের হাসি ক্লিনিকের স্বাস্থ্য কর্মী উম্মে কুলসুম মুক্তা। তিনি একই গ্রামের আমিন মিয়ার মেয়ে।
জানা যায়, ওই স্বাস্থ্যকর্মী ক্লিনিকের ম্যানাজার মাহবুব আলমের যোগসাজশে অহরহ এমন প্রতারনা করে আসছেন।
এছাড়াও স্বাস্থ্যকর্মী উম্মে কুলসুম মুক্তা হাজীগঞ্জ মেডিকেল ইন্সটিটিউট হতে এক বছরের প্যারামেডিক কোর্স সম্পন্ন করে সূর্যের হাসি ক্লিনিকে চাকরি নেন। তিনি গর্ভবতী নারীদের চিকিৎসা পত্র লিখছেন, বিভিন্ন টেস্ট করাচ্ছেন এবং রিপোর্টেও তিনি স্বাক্ষর দিচ্ছেন।
ভুক্তভোগী নুসরাত জানান,পরিচিতির সুবাদে একই এলাকার নুসরাতকে জরায়ুর ভ্যাকসিন দেয়ার পরামর্শ দেন স্বাস্থ্য কর্মী মুক্তা। বিনিময়ে ছয় হাজার টাকা লাগবে বলে জানায় সে।
১১ নভেম্বর নুসরাত জাহান হাজীগঞ্জ বাজারের সূর্যের হাসি ক্লিনিকে গেলে স্বাস্থ্যকর্মী মুক্তা তড়িঘড়ি করে তাকে ভিতরের রুমে নিয়ে যায়। সেখানে জরায়ু ক্যান্সার প্রতিরোধক ভ্যাকসিন দেয়ার নামে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে। বাড়িতে গিয়ে নিজের চাচিকে ভ্যাকসিন দিতে উদ্বুদ্ধ করি। ১২ নভেম্বর চাচি ভ্যাকসিন দিতে ক্লিনিকে গেলে শামছুন্নাহার নামে এক স্বাস্থ্য কর্মী জরায়ু ক্যান্সার প্রতিরোধক ভ্যাকসিন এক মাস যাবৎ নেই বলে জানান এবং কিছুদিন পরে আসার জন্য অনুরোধ করেন। পরে চাচির কাছ থেকে জানতে পেরে আমি ক্লিনিকে ছুটে যান। গিয়ে রেজিষ্ট্রার খাতা দেখি আমাকে হেপাটাইটিস ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে।
এদিকে সূর্যের হাসি ক্লিনিকের স্বাস্থ্য কর্মী শামসুন্নাহার জানান নুসরাত জাহান নামের একজন নারী ১১ নভেম্বর ক্লিনিকে আসলে মুক্তা তাকে ভিতরের রুমে নিয়ে যায়। সেখানেই তাকে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের ভ্যাকসিন দেন।
তিনি আরো জানান, প্রতারণার বিষয়টি আমি অফিসের মিটিং এ উপস্থাপন করলে ম্যানাজার আমার উপরে ক্ষিপ্ত হয়ে যায় এবং আমাকে কিভাবে চাকরি করি সেটা তিনি দেখে নিবেন বলে হুমকি দেয়। এদিকে তিনি আমার জুলাই মাসের বেতন উত্তোলন এর রেজিস্টার খাতায় অগ্রিম স্বাক্ষর নিয়ে নেন। বর্তমানে আমি শঙ্কায় রয়েছে তিনি আমার অগ্রিম স্বাক্ষর নিয়ে বেতন না দেওয়ার পরিকল্পনা করেন কিনা! এছাড়াও ম্যানাজার মাহবুব আমাকে পদন্নোতির কথা বলে ৭২ হাজার টাকা নেন। এখন দিবেন না বলে জানিয়ে দেন।
সূর্যের হাসি ক্লিনিকের হাজীগঞ্জ শাখার ম্যানাজার মোঃ মাহবুব আলম জানান, সমস্যা যেটা হয়েছে সেটা সমাধান হয়ে গেছে এবং টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের ক্লিনিকে এমবিবিএস ডাক্তার আগে ছিলই না। আমাদের এখানে প্যারামেডিক দিয়ে রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যকর্মী উম্মে কুলসুম মুক্তার সাথে মোবাইল ফোনে কয়েকবার চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.শোয়েব আহমেদ চিশতী পপুলার বিডিনিউজকে জানান, ডাক্তার ছাড়া চিকিৎসাপত্র লেখার রাইট কারো নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যকর্মী উম্মে কুলসুম মুক্তাকে বার বার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।