চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে রমজানে রোজাদারদের তৃষ্ণার চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর মাঠা। পুরো হাজীগঞ্জ বাজারে মানহীন মাঠায় সায়লাব। এছাড়াও গ্রামাঞ্চলে এসব নিন্ম মানের মাঠা ফেরি করে বিক্রি করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার হাজীগঞ্জ সেনেটারী ইনেসপেক্টর সামছুন ইসলাম রমিজ হাজীগঞ্জের বেলচোঁ বাজারে অভিযান পরিচালনা করে আটটি দোকান থেকে প্রচুর পরিমাণে মানহীন মাঠা জব্দ করে জনসম্মুখে ধ্বংস করেছেন।
এসব মাঠার বোতলে নেই ল্যাভেল চিহ্ন। আবার যাদের বোতলে ল্যাভেল চিহ্ন রয়েছে তাদের নেই বিএসটিআই লাইসেন্স।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিশ্বরোড, হাজীগঞ্জ মধ্য বাজারসহ বিভিন্ন হোটেলের সামনে ইফতারির সাথে বিক্রি হচ্ছে এসব মাঠা। এছাড়াও গ্রামাঞ্চলে ফেরি করে এসব মানহীন মাঠা বিক্রয় হচ্ছে। এখানে ১লিটার ৭০ টাকা, আধা লিটার ৪০ টাকা ও ২৫০ মিঃলিঃ বোতলের মাঠা ২৫ টাকা করে বিক্রয় করা হয় । প্রতিদিন ভ্রাম্যমাণভাবে এই সব মাঠা বিক্রেতারা ২ থেকে ৩ মন দুধ দিয়ে মাঠা তৈরি করে বিক্রি করেন। হাজীগঞ্জ উপজেলার মকিমাবাদ ও রান্ধুনীমুড়াসহ বেশ কিছু স্থানেই প্রশাসনের নাকের ডগায় নানা অসাধু উপায় অবলম্বন করে বাসা বাড়ীতে তৈরি করা হচ্ছে এসব মাঠা। পরে অস্বাস্থ্যকর এসব মাঠা বিভিন্ন দোকান, পাড়া-মহল্লা ও রাস্তার মোড়ে বিক্রি করা হচ্ছে।

হাজীগঞ্জ বাজারে আসা সচেতন মহলের মধ্যে ক্রেতা কবির হোসেন ও হাসান বলেন, হাতে বানানো এসব মাঠার উৎপাদন ও মেয়াদ উত্তির্নের তারিখ পর্যন্ত নেই। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নষ্ট দুধ, চিনি, লবনসহ আরোও নানা উপাদান মিশিয়ে বানানো হচ্ছে এই মাঠা। শুধু তাই নয় মাঠা তৈরিতে শুনেছি টিস্যুও ব্যবহার করা হচ্ছে। তাই এসব বিষয় গুরুত্বের সাথে প্রশাসনের দেখা প্রয়োজন।
কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে মাঠা তৈরির কারখানাগুলোতে ব্রান্ডিং কোম্পানির পণ্যের মতো বোতলে স্টিকার লাগিয়ে রমরমা মাঠা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে অসাধু চক্র। হাজীগঞ্জ বাজারে মাঠা বিক্রেতা শুভ ঘোষ, বিমল, কয়েকজন জানায়, বাপ-দাদার আমল থেকে মাঠা বিক্রি করছি। রমজান এলেই বেচা-বিক্রি ভালো হয়।
হাজীগঞ্জ উপজেলা স্যানেটারী ইনেসপেক্টর শামছুল ইসলাম রুমী জানান, মাহে রমজান ও ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে আমরা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নজরদারি রেখেছি এবং অভিযান পরিচালনা করছি। বিশেষ করে বৃহস্পতিবার সকালে বেলচোঁ বাজার সহ বেশ কয়েকটি বাজারে অভিযান চালিয়ে প্রচুর পরিমাণ বৃষ্টিসহ বিভিন্ন নামে বেনামে নিন্ম মানের মাঠা জব্দ করা হয়েছে। এদিন মোট ৮টি দোকান থেকে এ ধরণের মাঠা জব্দ করা হয়। নিরাপদ খাদ্য আইনে অনুমোদন না থাকায় এসব মাঠা জব্দ করে জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে, চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অন্জনা খান মজলিশ বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মাঠা তৈরী হচ্ছে এমন তথ্য সুনির্দিষ্টভাবে পাওয়া মাত্রই আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবো।
H/N