বরগুনা সদর উপজেলার নলটোনা ইউনিয়নের বাবুগঞ্জ বাজার এলাকায় বন বিভাগের সৃজন করা গোলগাছ কেটে অর্ধশতাধিক বসতঘর তৈরি করা হয়েছে। এতে পরিবেশ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকির মুখে পড়ছে।
অভিযোগ উঠেছে বন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে স্থানীয় বাসিন্দারা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাইরে গোলগাছের বাগান উজাড় করে বসতঘর তুলছেন। এতে আর্থিক লেনদেনও হচ্ছে। তবে স্থানীয় বিট কার্যালয়ের কর্মকর্তা জানান, জনবলসংকটের কারণে এসব অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা যাচ্ছে না। ১৭ জনের জনবলের স্থানে এখন ৪ জন জনবল রয়েছেন। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য তাঁরা বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ে মামলা করেছেন।
ষাটের দশকের শুরুর দিকে বরগুনায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এরপর বাঁধ রক্ষার জন্য বন বিভাগ থেকে বাঁধের পাদদেশে গোলগাছ রোপণ করে বাগান গড়ে তোলা হয়। বাঁধের ১০০ থেকে ২০০ ফুটের মধ্যে জমির মালিক পানি উন্নয়ন বোর্ড বন বিভাগের বাবুগঞ্জ বিট কার্যালয়ের অভ্যন্তরে ১৪ কিলোমিটার গোলগাছের বাগান রয়েছে।
শনিবার বাবুগঞ্জ বাজারসংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাইরে সৃজিত গোলগাছের বাগানের মধ্যে অর্ধশতাধিক বসতঘর রয়েছে। গত দুই মাসে তৈরি করা হয়েছে অন্তত চারটি বসতঘর। গোলগাছ কেটে ঘর তৈরি করা হয়েছে।
খোকন নামের এক ব্যক্তি সেখানে ঘর তোলার জন্য গোলগাছ কেটে পরিষ্কার করেছেন। পাশে অস্থায়ী বসতঘরে রান্না করছেন নারী সদস্যরা।
স্থানীয় বাসিন্দা মমতাজুর রহমান বলেন, গোলগাছের বাগান ধ্বংস করে ঘর ও রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। বর্ষার সময় এ বাগানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। এতে বাগানের গাছ মরে যাবে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়বে। এসব ঘর ও রাস্তা দ্রুত সরিয়ে নেওয়া দরকার।
অবৈধভাবে দখল করে গোলগাছের বাগানে ঘর তুলছেন শাহ আলম ফকির ও মাকসুদা খাতুন দম্পতি। তাঁরা বলেন, এটা তাঁদের নিজস্ব জমি। ঘর তোলার সময় পুলিশ ও বন বিভাগের লোক এসেছিলেন। তাঁদের কিছু দিয়ে থামানো হয়েছে।
সূত্র:প্রথম আলো
H/N