রফিক ভাই রমজানের মাঝামাঝি সময় থেকেই শারিরক দুর্বলতায় ভুগতেছিলেন। ইন্তেকালের আগেরদিন ও ( ৩০/৫/২০২০ শনিবার) আমার সাথে ফোনে কথা হয়েছিল। বলেছিলেন, শরীর খুবই দুর্বল, খাবার-দাবার একদম মনে চায় না, চলা-ফেরাও করতে মনে চায় না।এবং সেদিন বাজারেও এসেছেন, অনেকের সাথে সাক্ষাত করেছেন ।
ইন্তেকালের দিন ( ৩১/৫/২০২০ রবিবার) সকাল ১১ ঘটিকায় আলীগঞ্জ উপজেলা সরকারী স্বাস্থ্য কম্প্লেক্সে গিয়ে ডিউটি ডাক্তার দেখিয়েছেন। উনার মাঝে করোনা উপসর্গ থাকলে ডাক্তার সাহেব অবশ্যই তাঁর নমুনা সংগ্রহ করতেন। হাসপাতাল কতৃপক্ষ তাঁর কোন নমুনা রাখার প্রয়োজন মনে করেন নাই। অথচ, কিছু লোক অযথাই বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছেন।ডাক্তার সাহেব স্বভাবিকভাবে প্রেসকিপশান এবং বাহিরে কোন ডায়াগনিষ্টিক সেন্টারে পরীক্ষার জন্য তিনটি টেষ্ট দেন।
ডাক্তার দেখানোর আগে বাড়িতে দায় দেনার একটা লিষ্ট করে ছেলেদের হাতে দিয়ে যান। এবং বাজারে আসার সময় ঢাকার এক পাওনাদারকে পাঠানোর জন্য দুই লক্ষ টাকা সাথে করে নিয়ে আসেন এবং ঐ পাওনাদের টাকা পাঠিয়ে তাঁর কাছে লেন-দেনের যাবতীয় ভুল-ভ্রান্তি ক্ষমা চেয়ে নেন।
ডাক্তার দেখিয়ে , ঢাকায় টাকা পাঠিয়ে দুপুর ১২ ঘটিকার পরে বাড়ি যান। বাড়িতে গিয়ে নিজেই অযু করে ছেলেদের সহ জিকির শুরু করেন। জিকির করা অবস্থায় দুপুর ১টার কিছুক্ষন আগে ইন্তেকাল করেন।করোনা উপসর্গ না থাকায় মৃত্যুর আগে বা পরে তাঁর নমুনা সংগ্রহ করা হয় নাই।
মৃত্যুর খবর শুনে তাৎক্ষনিক আমরা দায়ীত্বশীলরা তাঁর বাড়িতে যাই। মহল্লার লোকজন তাঁর মৃত্যু সংবাদ শুনে তাঁর বাড়ির আঙ্গিনায় জড়ো হলে সকরকে নিয়ে পরামর্শ করে বিকাল ৪ ঘটিকায় জানাজার সময় নির্ধারন করে যথাসময়ে জানাজা শেষে বাড়ীর পাশের বাদল কমিশনারের অনুরোধে তাঁর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
যোবায়ের আহমাদ
সাধারন সম্পাদক
বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি
চাঁদপুর জেলা শাখা