১. বাস বন্ধ, প্রাইভেট কার চালু
সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ অনুযায়ী বিধি-নিষেধ কার্যকরের প্রথম দিন থেকে গণ-পরিবহন বন্ধ করে দেয়া হয়। কিন্তু একই সাথে দেখা গেছে শহর জুড়ে প্রাইভেট কার চলছে।
এ ব্যবস্থাকে একটি বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন পরিবহন খাতের সাথে সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া পরিবহন শ্রমিক এবং মালিকদের মধ্যে একটা আশংকা তৈরি হয়েছিল যে ‘লকডাউন’ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
২. কারখানা খোলা, মার্কেট বন্ধ
গার্মেন্টস কারখানাগুলো বরাবরই অন্যসব সরকারি বিধি-নিষেধের আওতার বাইরে ছিল।
২০২০ সালের লকডাউনেও যখন সবকিছু বন্ধ ছিল, তখন গার্মেন্টস কারখানাগুলো খোলা রাখা হয়। এবারও শুরু থেকেই গার্মেন্টসসহ শিল্প-কারখানাগুলো বিধি-নিষেধের বাইরে ছিল।
দোকানীরা বলছেন, লকডাউনের মাধ্যমে বৈষম্য করা হয়েছে।
৩. অফিস খোলা, পরিবহন বন্ধ
সরকারি বিধি-নিষেধের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সকল সরকারি-বেসরকারি অফিস শুধু জরুরি কাজ সম্পাদনের জন্য সীমিত পরিসরে প্রয়োজনীয় জনবলকে নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাপনায় অফিসে আনা-নেওয়া করতে পারবে।
কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, বাংলাদেশে বেশিরভাগ অফিসের নিজস্ব কোন পরিবহন ব্যবস্থা নেই।
একদিকে অফিস খোলা এবং অন্যদিকে রাস্তায় গণ-পরিবহন নেই। এ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ।
প্রতিদিন অফিসে যাতায়াত করতে বহু টাকা খরচ হচ্ছে। এনিয়ে মানুষের মধ্যে এক ধরণের ক্ষোভও তৈরি হয়।
৪. বইমেলা খোলা, ক্ষুদ্র ব্যবসা বন্ধ
এবারের লকডাউনে যে বিষয়টি অনেককে বিস্মিত করেছে, সেটি হচ্ছে ঢাকায় বইমেলা চালু রাখা।
একদিকে বইমেলা চালু রাখা হয়েছে, অন্যদিকে বিভিন্ন দোকান বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
এদের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীও রয়েছেন যারা দৈনন্দিন রোজগারের উপর নির্ভর করেন।
ব্যবসায়ীদের যুক্তি হচ্ছে, বইমেলা চালু রাখলে যদি সংক্রমণ না বাড়ে তাহলে কি তাদের ব্যবসা চলমান থাকলে সংক্রমণ বাড়বে?
৫. সরকারি অফিস সীমিত, বেসরকারি অফিস পুরোদমে
সরকারি প্রজ্ঞাপনে যদিও বলা হয়েছে যে সরকারি-বেসরকারি অফিস কেবল জরুরি কাজ সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক লোকবল দিয়ে কাজ করাবে।
প্রকৃতপক্ষে বেসরকারি অফিসগুলোর জন্য এই নির্দেশনা সরকার বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
ফলে বেসরকারি চাকুরীজীবীদের মনে বিষয়টি নিয়ে এক ধরণের ক্ষোভ তৈরি হয়।
সূত্র:বিবিসি বাংলা
H/N