‘বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি’র চেয়ারম্যান, সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী বলেছেন, ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাত্রিতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে দমন করার জন্য জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে টিক্কা খান, রাও ফরমান আলী ও খাদিম হোসেন রাজার নেতৃত্বে নির্মম গণহত্যার পথ বেঁছে নিয়েছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনী। কাপুরুষের মত তারা ঘুমন্ত, নিরস্ত্র, নিরীহ শিশু-নারী, ছাত্র-শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবীদেরকে হত্যা করেছে৷
তারা ভেবেছিল এর মাধ্যমে বাঙালি জাতিকে চিরতরে নিস্তব্ধ করা সম্ভব হবে। কিন্তু তাদের এ অপচেষ্টা, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ও একতাবদ্ধ বীর বাঙালি জাতির মুক্তির আন্দোলনকে রুখতে পারে নি৷ বরং ২৬শে মার্চ বঙ্গবন্ধু আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বাধীনতা ঘোষণার পর মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এদেশের আপামর জনগণ।
৯ মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে, ৩০ লক্ষ শহীদের প্রাণ ও ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে স্বাধীনতার সূর্যকে নিজেদের করে নিয়েছি আমরা। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, সত্যের বিজয় অবশ্যম্ভাবী।
সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী আরো বলেন, ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর থেকেই তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানী শোষক শ্রেণী এদেশের মানুষের ওপর নির্বিচারে অত্যাচার, নিপীড়ণ চালিয়েছে। তবে ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের গণহত্যার ঘটনা বিশ্বের ইতিহাসে জঘন্যতম মানবিক বিপর্যয়ের উদাহরণ হয়ে আছে।
তাই পাকিস্তান যদি সত্যিকার অর্থে নিজেদেরকে একটি সভ্য জাতি হিসেবে দাবি করে, তবে পাকিস্তান সরকারের উচিত এ গণহত্যার দায় স্বীকার করে বাঙালি জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া। বিশ্বে ক্ষমা চাওয়ার উদাহরণ বিরল নয়৷ এতে ক্ষমাপ্রার্থী দেশের মর্যাদা বাড়বে, তাদের প্রতি দ্রোহের আগুন প্রশমিত হবে এবং দু দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের পথ প্রশস্ত হবে৷
২৪শে মার্চ রাতে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় পবিত্র ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (সা:) ও পবিত্র শব-ই- বরাত এর তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
ভবের চর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহিদ মোহাম্মদ লিটনের সভাপতিত্বে
আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন, মুফতি বাকী বিল্লাহ্ আল আজহারী, হাফেজ মুফতি মাকসুদুর রহমান, হাফেজ মওলানা মনসুর আলি।
উপস্থিত ছিলেন মইনীয়া যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও মুন্সিগঞ্জ জেলার সভাপতি খলিফা শাহ মোঃ আবুল কাশেম, সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক ও গজারিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি সাংবাদিক মহিউদ্দিন আহমেদ প্রমূখ।
বিশ্ব মানবতার কল্যাণ, দেশের শান্তি-সমৃদ্ধি কামনায় মুনাজাত পরিচালনা করেন, শাহ্সূফি সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী। হাজারো আশেকানবৃন্দ মুনাজাতে অংশগ্রহণ করেন।