জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসেসহ অতিথিরা দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করেন :পিআইডি
শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে বলেছেন, সংহতির বার্তা নিয়েই তিনি বাংলাদেশে এসেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের ঐতিহাসিকতা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, কোভিড-১৯ সংক্রমণকালে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সংহতি জানাতে আমি সশরীরে এখানে এসেছি। দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতার প্রতিফলনও আমার এই সফর।
গতকাল বিকেলে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘মুজিব চিরন্তন’ উৎসবের তৃতীয় দিনের অনুষ্ঠান। বিকেল সাড়ে ৪টায় সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর তারা একসঙ্গে মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন। ‘যতকাল রবে পদ্মা যমুনা’ শিরোনামের এ অনুষ্ঠান শুরু হয় কুরআন, গীতা, ত্রিপিটক ও বাইবেল পাঠের মধ্য দিয়ে। অনুষ্ঠানে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ভি ল্যাভরভের একটি ভিডিও বার্তা দেখানো হয়।
‘মুজিব চিরন্তন’ অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে রাজাপাকসে আরো বলেন, বাংলা নামের জনপদ থেকে প্রথম অভিবাসী আমাদের দেশে পৌঁছে দুই হাজার বছর আগে। আর বাংলার সঙ্গে সিংহলের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ষষ্ঠ শতাব্দী থেকে।’ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কা যে সামনের কাতারে ছিল, তার উল্লেখও করেন তিনি।
বঙ্গবন্ধুর অর্জন ও ত্যাগ স্মরণ করে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’ কবিতার কয়েকটি চরণ ইংরেজিতে পড়ে শোনান। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সারা জীবনের ব্রত ছিল বাংলাদেশের জনগণ, তাদের ভাষা আর কল্যাণ। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিষয়ে দৃঢ়প্রত্যয়ী ছিলেন। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, যে স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন, তা তিনি পুরোপুরি দেখে যেতে পারেননি। তবে বাংলাদেশের বর্তমান অর্জনের প্রশংসা করে রাজাপাকসে বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ অনুসরণ করেই বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করেছেন। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে, বাংলাদেশকে সুখী ও দারিদ্র্যমুক্ত করতে তিনি ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসেকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আজকের অনুষ্ঠানে বন্ধুপ্রতিম শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে এই উদযাপনকে মহিমান্বিত করেছেন। এ সময় তিনি অনুষ্ঠানে বার্তা পাঠানোর জন্য রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকেও ধন্যবাদ জানান। এ ছাড়া যেসব বিশ্বনেতৃবৃন্দ বার্তা পাঠিয়েছেন, তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের সকলের বার্তা আমাদের অনুষ্ঠানকে মহিমান্বিত করেছে। তাদের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বের সম্পর্কের দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে।’