সংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারকদের অভিযোগ, সরকারি কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণেই মূলত সৌদি আরবে মাছ রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। তাঁরা বলেন, হিমায়িত মাছ রপ্তানির জন্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে সৌদি ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অথরিটিতে (এসএফডিএ) নিবন্ধিত হতে হয়। প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হয় উভয় দেশের সরকারি পর্যায়ে। এক মাসে আগে মৎস্য অধিদপ্তর রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা প্রস্তুত করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। কিন্তু সেখানেই বিষয়টি আটকে আছে।
পবিত্র রমজান মাস ও হজ উপলক্ষে সবচেয়ে বেশি মাছ রপ্তানি হয় সৌদিতে। গতবার করোনার কারণে ব্যবসায় মার খেয়েছে। চলতি বছরে এসে নিষেধাজ্ঞার কারণে রপ্তানি করা যাচ্ছে না। সরকারি পর্যায়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে মাছ রপ্তানির জট খুলবে বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা।
বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফইএ) তথ্যানুযায়ী, সৌদিতে গত ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১ কোটি ডলার করে হিমায়িত চিংড়ি ও মাছ রপ্তানি হয়। সর্বশেষ ২০১৯-২০ অর্থবছরে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৫০ লাখ ডলার। মোট রপ্তানির ৯৯ শতাংশই মাছ। কালেভদ্রে কিছু হিমায়িত চিংড়ি যায়।
চাষের মাছ রপ্তানি বন্ধ হলেও প্রাকৃতিক উৎসের মাছ সৌদি আরবে রপ্তানি হচ্ছিল। কিন্তু গত বছরের শেষ দিকে বাংলাদেশের রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো এসএফডিএতে নিবন্ধিত না হওয়ায় তারা রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। শুরুতে প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের দায়িত্বে নিবন্ধন নেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে তারা বিএফএফইএর দ্বারস্থ হয়। সংগঠনটির তরফ থেকে দুই দফায় ২৩ প্রতিষ্ঠানের নামের তালিকা মৎস্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়। অধিদপ্তর আরও ১১টি প্রতিষ্ঠান বাছাই করে। গত ৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা পাঠিয়ে এসএফডিএতে নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি লেখেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী শামস আফরোজ। ইতিমধ্যে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর ব্যবসায়ীরা সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এফএফডিএতে নিবন্ধন করে রপ্তানি অব্যাহত রেখেছেন।