অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় মনির হোসেন ওরফে ‘গোল্ডেন মনির’-এর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আমলে নিয়েছেন আদালত। ১৩ মার্চ অভিযোগ গঠনের শুনানির তারিখ ধার্য করেছেন আদালত।
আজ সোমবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ এই আদেশ দেন। প্রথম আলোকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ওই আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) তাপস কুমার পাল।
তাপস কুমার পাল বলেন, অস্ত্র মামলায় মনিরের বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।
আসামি মনিরকে আজ কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
গত ২৬ জানুয়ারি এই মামলায় মনিরের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামি মনির একজন চোরাকারবারি। তাঁর বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে অবৈধ অস্ত্র, গুলি, মাদকদ্রব্য, বিদেশি মুদ্রা, স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন জিনিস উদ্ধার করা হয়। এগুলো নিজ হেফাজতে রাখার কথা আসামি স্বীকার করেছেন।
গত বছরের ২১ নভেম্বর রাজধানীর মেরুল বাড্ডা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মনিরকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরদিন ২২ নভেম্বর অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও বৈদেশিক মুদ্রা রাখার পৃথক তিন মামলায় মনিরকে ১৮ দিন রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন আদালত।
র্যাবের ভাষ্য, মনির অবৈধ উপায়ে এক হাজার কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিক হয়েছেন।
গত শতকের নব্বইয়ের দশকে রাজধানীর গাউছিয়া মার্কেটের কাপড়ের দোকানের বিক্রয়কর্মী ছিলেন মনির। এরপর মৌচাক মার্কেটের ক্রোকারিজের দোকানে চাকরি নেন। পরে তিনি বিমানবন্দরকেন্দ্রিক লাগেজ পার্টি ও সোনার চোরাচালানে জড়িয়ে পড়েন। পরিচিতি পান ‘গোল্ডেন মনির’ নামে।
র্যাবের ভাষ্যমতে, বিক্রয়কর্মী থেকে লাগেজ পার্টিতে যোগ দেওয়ার পর মনির শুরুতে কর ফাঁকি দিয়ে কাপড়, কসমেটিক, ইলেকট্রনিক পণ্য, কম্পিউটারসামগ্রীসহ বিভিন্ন মালামাল আনা-নেওয়া করতেন। একপর্যায়ে আকাশপথে সোনা চোরাচালানে জড়িয়ে পড়েন তিনি।
সোনা চোরাচালানের মাধ্যমে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হওয়ার পর মনির কবজায় নেন রাজউক। কারসাজির মাধ্যমে মালিক হন একের পর এক প্লটের। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গেও মনিরের সখ্য ছিল। রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় ডিআইটি প্রজেক্টের ১১ নম্বর সড়কে মনিরের ছয়তলা বাড়ি আছে। সেখান থেকে গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল, চার লিটার বিদেশি মদ, ৩২টি নকল সিল, ৮ লাখ টাকার বেশি মূল্যমানের বিদেশি মুদ্রা, ৬০০ ভরি স্বর্ণালংকার, ১ কোটি ৯ লাখ টাকা জব্দ করার কথা জানায় র্যাব।