আজ সবুজের জন্য মেয়ে দেখতে যাবার কথা ছিল। আট হাজার টাকায় মাইক্রোভাড়া ভাড়া করা হয়। রাত পোহালেই ঢাকার দোহারে সবুজের জন্য মেয়ে দেখে আংটি পরাবে পরিবার। কিন্তু আংটি পরানো হলোনা। এ বলেই পুপিয়ে কাঁদছিলেন সবুজের বড় ভাই ব্যাংকার রেজাইল করিম শামীম।
মঙ্গলবার সকালে হাজীগঞ্জ উপজেলার ৯ নং গন্ধব্যপুর (উ:) ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর ফরাজি বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে হৃদয় বিদারক দৃশ্য। বাবা মোতালেব মা খুশিদা বেগম বাকরুদ্ধ। চলছে দাফনের প্রস্তুতি।
সোমবার সন্ধ্যায় কামরুল ইসলাম সবুজ ও তার বন্ধু আরিফ, ইব্রাহিম কচুয়ায় একটি জানাজায় অংশ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘনায় সবুজ ও আরিফ মারা যায়। বেচে যায় চালক ইব্রাহিম।
পুলিশ জানায়, মালবাহী ট্রাকে মুখামুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছে ১ জন আহত হয়েছে । হাজীগঞ্জ-গৌরীপুর কচুয়া সড়কের ডুমুরিয়া নিলামপাড়া এলাকায় সোমবার সন্ধ্যায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা কামরুল হাসান সবুজ (২৪) ও আরিফ হোসেন (২৫)। ইব্রাহীম হোসেন (১৯) নামে মোটরসাইকেল আরোহী গুরুতর আহত হয়েছে।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কামরুল ইসলাম সবুজকে মৃত ঘোষণা করেন। এ দিকে গুরুতর আহত আরিফকে ঢাকা নেয়ার পথে মারা যায়।
গুরুতর আহত ইব্রাহীমকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎকার জন্য ঢাকা প্রেরন করা হয়েছে। নিহত কামরুল ইসলাম সবুজ মোহাম্মদপুর গ্রামের আব্দুল মোতালেব আরিফ হোসেন জগন্নাথপুর গ্রামের জয়নাল আবেদীন খোকনের ছেলে। তারা দুজনে হাজীগঞ্জ মডেল সরকারি কলেজে অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র ছিল।
মোটর সাইকেল চালক আহত ইব্রাহীম হোসেন তার অপর দুই বন্ধু কামরুল ও আরিফ হোসেনকে নিয়ে তার নানার বাড়ি কচুয়ার উপজেলার তুলাতলী গ্রামে এক জানাযা অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে হাজীগঞ্জের উদ্দেশে রওয়ানা হয়। পথিমধ্যে নিলামপাড়া এলাকায় গৌরীপুরমুখী একটি মালবাহী ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে কামরুল ইসলাম সবুজ নিহত হয়। পরে ঢাকা নেয়ার পথে আরিফ মারা যায়।
সবুজের ভাই রেজাউল করিম শামীম ও আরিফের বাড়ির বাসিন্দা হাবিবউল্যা মজুমদার মুত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহতদের মৃতদেহ কচুয়া থানা থেকে বাড়ি আনা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সবুজ ও তার বন্ধু হয়ে গেল কবরের যাত্রী।