চাঁদপুর জেলাজুড়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের জেলা সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদসহ দলটির ৬২ জন নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছেন। এছাড়া পৃথক অভিযানে ১২ জন মাদক সংশ্লিষ্ট আসামিকে গ্রেফতার এবং ১৯ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার সকালে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাদিরা নূর।
তিনি জানান, চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমানের নির্দেশনায় অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন থানা পুলিশ এসব অভিযান পরিচালনা করে।
শুক্রবার রাতে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীরামদী এলাকার নিজ বাসা থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদকে গ্রেফতার করে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ। জেলার অন্যান্য স্থানে পরিচালিত অভিযানে গ্রেফতার হন জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান কাউসার (গুনরাজদী থেকে), জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক হাসিবুল হাসান মুন্না (নিজ বাড়ি থেকে), পৌর ছাত্রলীগের সম্পাদক আমজাদ হোসেন রনি (ট্রাক রোড থেকে), বাগাদী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা আক্তার হোসেন খান এবং যুবলীগ নেতা আরিফ হোসেন।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় ৩১ জন, মতলব উত্তরে ১২ জন, হাজীগঞ্জে ৭ জন, ফরিদগঞ্জে ৬ জন ও শাহরাস্তিতে ৬ জন।
অপরদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাদক মামলার ১২ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে মোট ৭৪০ গ্রাম গাঁজা ও ১৬৬ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
এছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের অভিযানে ১৯ কিশোরকে আটক করা হয়। ফরিদগঞ্জ থানা এলাকা থেকে ৭ জন, সদর মডেল থানা থেকে ৪ জন, হাইমচর থেকে ৪ জন এবং হাজীগঞ্জ থেকে ৪ জনসহ মোট ১৯ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকে আটক করা হয়। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে আটক কিশোরদের নিজ নিজ পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করেছে পুলিশ।
এদিকে শুক্রবার দুপুরে চাঁদপুরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি ও শহীদদের স্মরণে নির্মিত ‘৩৬ জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে’ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যায় চাঁদপুর শহরে জামায়াতে ইসলামী, জেলা যুবদল, ছাত্রদল ও এনসিপি পৃথক প্রতিবাদ মিছিল বের করে।
জেলা পুলিশ মো. মিজানুর রহমান জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধে পুলিশের এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।