সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমান আর নেই। শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি সাজ্জাদ আলম খান তপু তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বনানীর নিজ বাসভবনে হঠাৎ স্ট্রোকে আক্রান্ত হন বর্ষীয়ান এই সাংবাদিক। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে দ্রুত ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দুপুরে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
১৯৪৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মুহম্মদ শফিকুর রহমান। ফরিদগঞ্জ আলিয়া মাদ্রাসা থেকে কামিল ও চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতি ও সামাজিক আন্দোলনে সক্রিয় শফিকুর রহমান ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন।
সাংবাদিকতায় তার দীর্ঘ পেশাগত জীবনের সূচনা হয় ১৯৭০ সালে দৈনিক ইত্তেফাকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে। স্বাধীনতার পর ইত্তেফাকে যুক্ত হয়ে দীর্ঘ ৩২ বছর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন শেষে ২০০২ সালে তিনি অবসর নেন। পরবর্তীতে তিনি একজন জনপ্রিয় কলামিস্ট হিসেবে দেশজুড়ে পরিচিতি পান। কৃতি এই সাংবাদিক ২০১৬ থেকে ২০১৮ মেয়াদে টানা দুবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল ‘সিটিজেন টিভি’র চেয়ারম্যান ও প্রধান সম্পাদক এবং সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।