চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ছোট ভাইয়ের সম্পত্তি আত্মসাৎ, জালিয়াতির মাধ্যমে জমি নিজের নামে রেজিস্ট্রি এবং পুকুর ভরাটের অভিযোগ উঠেছে বড় ভাই সফিউল্লাহর বিরুদ্ধে। উপজেলার ৮নং হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের বেলঘর বড় হাটখোলা বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রবাসী নজরুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী সেফালী বেগম। তবে অভিযুক্ত সফিউল্লাহ দাবি করেছেন, জমিটি তিনি ক্রয় করেছেন এবং সে অনুযায়ী দখলে নিচ্ছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দুই ভাই সফিউল্লাহ ও নজরুল ইসলাম দীর্ঘদিন আগে পারিবারিকভাবে ৮৯ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। তাঁদের বাবা সুজ্জাত আলী কাজী জীবিত থাকাকালে জমিটি দুই ভাইয়ের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেন বলে দাবি করেছেন নজরুল ও স্থানীয় বাসিন্দারা। সে অনুযায়ী দুই ভাই ৪৪ শতাংশ ৫০ পয়েন্ট করে জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। নজরুল ইসলাম প্রবাসে থাকাকালে ওই জমিতে পুকুর খনন ও গাছপালা রোপণ করেন বলে জানা গেছে।
নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেফালী বেগম অভিযোগ করে বলেন, শ্বশুরের মৃত্যুর পর তাঁর ভাসুর সফিউল্লাহ তাঁদের কাছ থেকে একটি স্ট্যাম্প নিয়ে যান। পরে কয়েক মাস আগে পুরো ৮৯ শতাংশ জমি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন তিনি। সুফিয়ার দাবি, জালিয়াতির মাধ্যমে স্ট্যাম্প নিয়ে তাঁদের সম্পত্তি আত্মসাৎ করা হয়েছে।
প্রবাসী নজরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের পরিবারের সদস্য ও গ্রামের সবাই জানেন, জমিটি দুই ভাইয়ের। আমি ওই জমিতে পুকুর খনন করেছি এবং গাছপালা লাগিয়েছি। এখন আমার ভাই জোরপূর্বক জমি দখলের উদ্দেশ্যে গাছপালা কেটে পুকুরে বালু ভরাট করছেন। আমি আমার ন্যায্য সম্পত্তির হিস্যা চাই।”
তিনি আরও বলেন, স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হয়েছে। সেখানে তাঁকে জমির তিন ভাগের এক ভাগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় এবং জরিমানা বাবদ পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার কথাও বলা হয় বলে তিনি দাবি করেন। তবে ওই সিদ্ধান্তে তিনি সন্তুষ্ট নন। তাঁর ভাষ্য, নিজের ন্যায্য অংশ বুঝে পেতে চান তিনি।
এ বিষয়ে স্থানীয় সালিশদার ও সাবেক ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমরা কয়েকবার বসেছি। সর্বশেষ পুরো জমির তিন ভাগের এক ভাগ নজরুল ইসলামকে বুঝিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।”
হাজীগঞ্জ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ফারুক হোসেন বলেন, শেফালী বেগমের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। বিষয়টি মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত বালু ভরাটের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সফিউল্লাহ বলেন, “জমিটি আমি ক্রয় করেছি। তাই আমি দখলে নিচ্ছি।”
অন্যদিকে, স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ওই জমিতে নজরুল ইসলামকে মাছ চাষ করতে এবং গাছপালা রোপণ করতে দেখেছেন। তাঁদের দাবি, বাবা জীবিত থাকাকালে দুই ভাইকে জমির পৃথক অংশ বুঝিয়ে দিয়েছিলেন।