ফরিদগঞ্জ উপজেলার কুয়েত প্রবাসী খোকন পাটওয়ারী (৫০)-এর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তিনি ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতা আজাদ পাটওয়ারী এবং আষ্টা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও ৫নং গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়ন বিট কমিউনিটির সভাপতি মনির পাটওয়ারীর ভাই।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার আষ্টা পাটওয়ারী বাড়িতে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, খোকন পাটওয়ারী দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে কুয়েতে প্রবাস জীবনযাপন করছিলেন। গত শুক্রবার হঠাৎ স্ট্রোক করে কুয়েতে নিজ কক্ষে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে তাঁর মরদেহ দেশে আনা হলে মঙ্গলবার নিজ বাড়িতে জানাজা শেষে দাফন করা হয়।
জানাজা শেষে তাঁর ছোট ভাই আজাদ পাটওয়ারী ও মনির পাটওয়ারী বলেন, ‘আমাদের ভাই খোকন পাটওয়ারী ছিলেন আমাদের অভিভাবকের মতো। আমরা সাত ভাই-বোন। ভাইদের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর তিনি কুয়েতে ছিলেন। প্রবাসে থেকেও পরিবারের প্রতি তাঁর দায়িত্ব ও ভালোবাসা ছিল সবসময়। তাঁর মৃত্যুতে আমরা একজন অভিভাবককে হারিয়েছি।’
তারা আরও বলেন, ‘আমাদের ভাইয়ের মৃত্যুতে পরিবারে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। আমরা তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং পরিবারের সদস্যদের জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।’
এ সময় গল্লাক আদর্শ ডিগ্রি কলেজের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘খোকন পাটওয়ারী অত্যন্ত পরিচিত ও সামাজিক মানুষ ছিলেন। তিনি তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। তাঁর সন্তানদের প্রতি আমাদের সবার সহানুভূতি ও দায়িত্ববোধ থাকা উচিত। তাঁর এক ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং আরেক ছেলে নটর ডেম কলেজে পড়াশোনা করছে। সন্তানদের ভবিষ্যৎ যেন সুন্দরভাবে এগিয়ে যেতে পারে, সে জন্য সামাজিকভাবে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’
তিনি আরও বলেন, ‘খোকন পাটওয়ারীর পরিবারের প্রতি আমাদের আন্তরিক সহানুভূতি ও সমবেদনা রয়েছে। তাঁর পরিবারের পাশে সামাজিকভাবে থাকার চেষ্টা করব।’
জানাজায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী, আত্মীয়-স্বজন, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।