চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ৯নং গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামে রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা বিশাল জলাভূমি ‘মোল্লা খোর’। ডাকাতিয়া নদীর কোলঘেঁষা, বড়কুল গ্রামের পূর্বপাশে ও মোহাম্মদপুর গ্রামের উত্তর পাশে এনায়েতপুর-ডাটরা সড়কের পাশে অবস্থিত এ জলাভূমিকে ঘিরে রয়েছে সরকারি ও স্থানীয়ভাবে নানা সম্ভাবনা।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদপুর মৌজার সাবেক ১৩০ ও ১৪৬ দাগের অংশবিশেষ এবং বর্তমান ১২৭০ দাগে প্রায় ১২শ ৫ শতাংশ জলাভূমি রয়েছে। জলাভূমিটির চারপাশে পানি এবং মাঝখানে রয়েছে একটি দ্বীপের মতো উঁচু ভূমি। বর্ষা মৌসুমে পুরো এলাকা পানিতে ভরে উঠলে এটি হয়ে ওঠে দৃষ্টিনন্দন এক প্রাকৃতিক জলাভূমি।
হাজীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য বিভাগ প্রতি বছর এ এলাকায় মাছের প্রজনন ও বিচরণ উপযোগী পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি মৎস্য অভয়াশ্রম হিসেবে ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নিয়ে থাকে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, একশ্রেণির মাছ শিকারির কারণে সরকারি উদ্যোগ অনেক সময় বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে বিপুল সম্ভাবনাময় এ জলাভূমির জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে আরও কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
হতে পারে স্টেডিয়াম ও মৎস্য অভয়াশ্রম স্থানীয়দের মতে, মোল্লা খোরের মোট এলাকার একটি অংশ সরকারি উদ্যোগে পরিকল্পিতভাবে ভরাট করে সেখানে একটি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা সম্ভব হলে হাজীগঞ্জে ক্রীড়া অবকাঠামোর একটি নতুন দ্বার উন্মোচিত হতে পারে। একই সঙ্গে জলাভূমির অবশিষ্ট অংশ মৎস্য অভয়াশ্রম হিসেবে সংরক্ষণ করা হলে একদিকে ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন, অন্যদিকে মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার সুযোগ তৈরি হবে।
তাদের মতে, পরিকল্পিত উন্নয়ন করা গেলে জায়গাটি শুধু স্টেডিয়ামেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; পানি, সবুজ ঘাস, গাছপালা ও পাখির কলকাকলিতে এটি একটি আকর্ষণীয় বিনোদন ও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি চাঙা হওয়ার পাশাপাশি সরকারি রাজস্ব আয়ের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
আলোচনায় উঠে এসেছে মোল্লা খোরের নাম হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জি. মমিনুল হক হাজীগঞ্জে একটি স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য উপযুক্ত জায়গা খুঁজছিলেন। সম্প্রতি হাজীগঞ্জ উপজেলার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনাকালে মোল্লা খোরের বিষয়টি তাঁর কাছে তুলে ধরেন সাংবাদিক খালেকুজ্জামান শামীম, হাছান মাহমুদ ও মহিউদ্দিন আল আজাদ।
বিষয়টি জানার পর সংসদ সদস্য মোল্লা খোর এলাকা পরিদর্শন ও সম্ভাব্যতা যাচাই করে একটি পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনে আল জায়েদ হোসেনকে পরামর্শ দেন।
হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনে আল জায়েদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ‘সংসদ সদস্য আমার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছেন। কয়েক দিনের মধ্যেই আমি মোল্লা খোর এলাকা পরিদর্শনে যাব। জায়গাটি দেখে সম্ভাব্যতা যাচাই করে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে পরিকল্পনা করা হবে।’
সমন্বিত পরিকল্পনায় বদলে যেতে পারে পুরো এলাকা
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মোল্লা খোরকে ঘিরে কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হলে তা যেন পরিবেশ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই করা হয়। স্টেডিয়ামের পাশাপাশি মৎস্য অভয়াশ্রম, হাঁটার পথ, সবুজায়ন, দর্শনার্থীদের বসার ব্যবস্থা এবং পাখি ও জলজ প্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করা গেলে এলাকাটি হাজীগঞ্জের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হতে পারে।
একই সঙ্গে সরকারি উদ্যোগে সঠিকভাবে জায়গাটির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধ জলাভূমি একটি পরিকল্পিত ক্রীড়া, মৎস্য ও বিনোদনকেন্দ্রে রূপ নিতে পারে। স্থানীয়দের মতে, এখন প্রয়োজন সরকারি পর্যায়ে জায়গাটির মালিকানা, জমির শ্রেণি, পরিবেশগত প্রভাব ও কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাই করে একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করা।