চাঁদপুরের কচুয়ায় নিজের প্রতিষ্ঠিত মহিলা মাদ্রাসার ১৩ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে ওয়ার্ড জামায়াতের আমীরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
কচুয়া উপজেলার ১২ নং আশ্রাফপুর ইউনিয়নের চক্রা গ্রামে বেনুছো বাড়ির মদিনাতুল উলুম মহিলা মাদ্রাসার মেয়েদের আবাসিক কক্ষে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেফতারকৃত মো. নুরুল আলম (৪০) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর ১২ নং আশ্রাফপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড নির্বাচনী সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এ ঘটনায় ছাত্রীর মা আনোয়ারা বেগম মো:
নুরুল আলমকে বিবাধী করে কচুয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১০ ধারায় মামলা দায়ের করেন। পরে কচুয়া থানার পুলিশ নুরুল আলমকে গ্রেফতার করে সোমবার সকালে চাঁদপুর বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতে নেতা নুরুল আলম উপজেলার ১২ নং আশ্রাফপুর ইউনিয়নের চক্রা গ্রামে বেনুছো বাড়ির মদিনাতুল উলুম মহিলা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক এবং নিজেই শিক্ষক হিসেবে বলে ছাত্রীদের ক্লাস নিতেন। এ সুবাধে নুরুল আলম প্রায়ই সময়ে ১৩ বছর বয়সী মেয়েসহ কয়েকজন ছাত্রীকে বিভিন্ন ধরনের যৌন হয়রানি করে আসছে।
মামলার বাদী আনোয়ারা বেগম বলেন, ঘটনার দিন সকালে তার মেয়ে পড়াশোনা করছিল। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষক কৌশলে তাকে পড়ার কক্ষ থেকে শোয়ার কক্ষে নিয়ে যান এবং সেখানে অনাকাঙ্ক্ষিত শারীরিক স্পর্শ ও শ্লীলতাহানি করলে ওই ছাত্রী কান্না করতে করতে পুনরায় পড়ার কক্ষে চলে আসে। পরে বিষয়টি তার আমাকে জানায়।
বিষয়টি জানতে পেরে তিনি মাদ্রাসায় গিয়ে তার মেয়ে ও সহপাঠীদের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত শুনেন। অভিযুক্ত শিক্ষক এর আগেও মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত কয়েকজন ছাত্রীর সঙ্গে অশোভন আচরণ করেছেন ।
পরে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি এ ঘটনায় মো: নুরুল আলমকে বিবাদী করে কচুয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১০ ধারায় মামলা করেন।