নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য পরিচয়ে এক ব্যাংক এজেন্টকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ১২ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। দুর্বৃত্তরা ওই ব্যক্তিকে হাতকড়া পরিয়ে একটি প্রাইভেটকারে তুলে নিয়ে যায়। পরে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে তাঁকে হাত-পা ও চোখ বাঁধা অবস্থায় রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যায়।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার চরহাজারী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের এম মজিদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ঘটনাটি ঘটে।
ভুক্তভোগীর নাম আবদুর রহমান। তিনি ইসলামী ব্যাংক আবু মদিনা আউটলেট এজেন্ট শাখার ইনচার্জ ও এজেন্ট ব্যবসায়ী।
আবদুর রহমানের অভিযোগ, সোমবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে তিনি ব্যাংক শাখা থেকে ১২ লাখ টাকা নগদ উত্তোলন করেন। পরে মোটরসাইকেলে করে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন। চরহাজারী ১ নম্বর ওয়ার্ডের এম মজিদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে পৌঁছালে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া একটি প্রাইভেটকার তাঁর পথরোধ করে।
তিনি জানান, গাড়িতে থাকা পাঁচ ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেয়। তাঁর কাছে মাদক রয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তাঁকে তল্লাশির কথা বলা হয়। একপর্যায়ে তাঁর শরীরে পিস্তল ঠেকিয়ে হাতকড়া পরানো হয় এবং জোর করে গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়।
আবদুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়ির ভেতরে তাঁর চোখ ও মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয়। পরে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা নিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পর তাঁকে কবিরহাট উপজেলার নবীর দোকানের পাশে একটি স্থানে হাত ও চোখ বাঁধা অবস্থায় ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনার সময় আবদুর রহমান সাদা পাঞ্জাবি পরা অবস্থায় মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন। কালো জ্যাকেট ও সাধারণ পোশাক পরা পাঁচ ব্যক্তি তাঁকে ঘিরে ধরে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে একটি প্রাইভেটকারে তুলে নেয়। পরে স্থানীয়রা জানতে পারেন, তিনি ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন এবং তাঁর কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকিম বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে যায়। পাশাপাশি আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
ওসি জানান, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা শনাক্ত করার পাশাপাশি ছিনতাই হওয়া টাকা উদ্ধারে পুলিশ অভিযান ও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ঘটনার সময় পর্যন্ত ভুক্তভোগী পক্ষ থেকে থানায় লিখিত এজাহার বা আনুষ্ঠানিক মামলা করা হয়নি। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।