POPULAR BD NEWS
Popular BD News Logo

মতলব উত্তরে খুচরা মাদককারবারি ধরা পড়লেও অধরা মূল হোতারা

সুমন আহমেদ | প্রকাশিত: আগস্ট ২৪, ২০২৬ | সময়: ১১:৪২ অপরাহ্ণ

মতলব উত্তর উপজেলায় মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ইয়াবা, গাঁজা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্যসহ খুচরা বিক্রেতা ও সেবনকারীরা আটক হলেও মাদক ব্যবসার নেপথ্যে থাকা মূল হোতাদের অনেকেই থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার ১৪ ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় কৌশলে মাদকের কারবার চলছে। ছোট পর্যায়ের বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হলেও মাদকের সরবরাহ ও অর্থের মূল নিয়ন্ত্রণকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না হওয়ায় সমস্যাটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না।
ফলে একদিকে যেমন তরুণদের একটি অংশ মাদকের দিকে ঝুঁকছে, অন্যদিকে পরিবার ও সমাজে বাড়ছে নানা ধরনের উদ্বেগ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন জানান, মাদক শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়; এটি এখন সামাজিক ও পারিবারিক সংকটেরও কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে উঠতি বয়সী তরুণদের মধ্যে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করা জরুরি।

দূর্গাপুর ইউনিয়নের মো. আল আমিন বলেন, মাঝে মধ্যে মাদকসহ কয়েকজন আটক হওয়ার খবর পাওয়া যায়। কিন্তু যারা এসব মাদকের বড় চালান আনে এবং পেছন থেকে পুরো ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না হলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।
সুলতানাবাদ ইউনিয়নের মো. রবিউল হক জানান, মাদক নির্মূলে শুধু গ্রেপ্তার নয়, মাদকের উৎস, সরবরাহকারী ও অর্থের যোগানদাতাদের চিহ্নিত করা দরকার। পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সবাইকে সচেতন হতে হবে।

এদিকে মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ। উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মিয়া মঞ্জুর আমিন স্বপন বলেন, মাদক একটি পরিবার ও সমাজ ধ্বংস করে দিতে পারে। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। যারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তারা যে পর্যায়েরই হোক, তাদের আইনের আওতায় আনার কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, শুধু খুচরা বিক্রেতা বা সেবনকারীদের গ্রেপ্তার করলেই মাদক নির্মূল হবে না। মাদকের মূল উৎস ও বড় কারবারিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন ও পরিবারের সদস্যদের সচেতন করার উদ্যোগও প্রয়োজন।

মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুল হাসান বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। মাদকদ্রব্যসহ কাউকে আটক করা হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে পুলিশ কাজ করছে। শুধু খুচরা বিক্রেতা নয়, মাদকের উৎস ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদেরও আইনের আওতায় আনার জন্য তথ্য সংগ্রহ ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয়দের সহযোগিতাও প্রয়োজন।

সচেতন মহলের মতে, মাদক নির্মূলে বিচ্ছিন্ন অভিযান যথেষ্ট নয়। মাদকের উৎস শনাক্ত, সরবরাহের পথ বন্ধ, বড় কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন এই চারটি বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার ও সামাজিক সংগঠনগুলোর মাধ্যমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানো প্রয়োজন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মতলব উত্তরকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও কঠোর ও ধারাবাহিক ভূমিকা পালন করবে। খুচরা বিক্রেতাদের পাশাপাশি মাদক ব্যবসার নেপথ্যের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা গেলে মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন তারা।

পপুলার বিডিনিউজ | বস্তুনিষ্ঠতা প্রকাশে দুরন্ত
কার্যালয়: কেনাকাটা মার্কেট, ৪র্থ তলা, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।
নিউজ ও বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৬-৪৬৯৫০৫ | ইমেইল: newspopular2020@gmail.com

© 2026 পপুলার বিডিনিউজ — অনুমতি ছাড়া লেখা/ছবি/ভিডিও ব্যবহার বেআইনি
প্রিন্ট করুন