ফরিদগঞ্জে সরকারি খালের পাড়ের গাছ বিক্রিকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের ১৯-বি আনন্দ বাজার খালের পাড়ে থাকা রেইন্ট্রি, কড়ইসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি হুমায়ুন কবির কাজীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জুলাই উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আনন্দ বাজার খালের পাড়ে থাকা গাছগুলো সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির কাজীর মধ্যস্থতায় ও তাঁর উপস্থিতিতে বিক্রি করা হয়। এ কাজে জব্বার মাস্টার নামে একজন সহযোগিতা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, খালের পাড়ের গাছ সরকারি সম্পত্তি হলেও হুমায়ুন কবির কাজী ও জব্বার মাস্টার নিজেদের মালিকানা দাবি করে গাছগুলো বিক্রি করেছেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নিজাম উদ্দিন মজুমদার বলেন, সরকারি খালের পাড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন গাছ বিক্রির ঘটনায় আমি নিজে বাদী হয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করছি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির কাজী বলেন, যেখান থেকে গাছ বিক্রি করা হয়েছে, সেটি আমাদের দুই পরিবারের ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি। গাছগুলো আমার শ্বশুরের হাতে লাগানো। তাই এগুলো আমরা বিক্রি করেছি।
গাছের ক্রেতা স্থানীয় হারুনুর রশিদ বলেন, “আমি সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন কাজীদের কাছ থেকে টাকা দিয়ে গাছ কিনেছি। তাই গাছ কেটে নিয়েছি।তবে গাছগুলো সরকারি সম্পত্তি কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় সরকারি সম্পত্তির গাছ বিক্রির অভিযোগের সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।