চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ৮নং হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী রাজাপুরা ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার শিক্ষকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেছেন। একইসঙ্গে মাদ্রাসা পরিচালনায় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে।
সোমবার দুপুরে উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের কাছে লিখিত বক্তব্যে শিক্ষকরা এসব কথা জানান।
শিক্ষকদের দাবি, স্থানীয় এসএম সাইফুজ্জামান সায়েম ও মাসুম বিল্লাহসহ অজ্ঞাত কয়েকজনের হুমকি-ধমকিতে তারা ভীত হয়ে মাদ্রাসায় আসা-যাওয়া করছেন।
সহ-সুপার মো. কবির হোসাইন জানান, গত ১৪ জুলাই কয়েকজন শিক্ষার্থীর বেতন ও পরীক্ষার ফি বকেয়া থাকায় তাদেরকে পরিশোধের কথা বলা হয়। এরপর আব্দুর রহমান নামের এক শিক্ষার্থীর বাবা হেদায়েত উল্যাহসহ কয়েকজন মাদ্রাসায় এসে অধ্যক্ষ ও সহ-সুপারকে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে উশৃঙ্খল আচরণ ও হুমকি দেন।
অধ্যক্ষ মো. মিজানুর রহমান সরকার অভিযোগ করেন, “ভূমি, সম্পত্তি কিংবা শিক্ষার্থীদের বিষয়ে যাই হোক, সায়েম বাড়াবাড়ি করেন। তিনি ও মাসুম মাদ্রাসায় এসে আমাদের হুমকি দেন। সবশেষ তিনি আমার পিঠের চামড়া তুলে ফেলার হুমকিও দেন।”
শিক্ষকরা আরও জানান, সায়েম মাদ্রাসার মালিকানাধীন সম্পত্তিতে টিনের বেড়া দিয়ে দখলের চেষ্টা করেন। বাধা দিতে গেলে মারমুখী আচরণ করা হয়। মাসুম বিল্লাহ মাদ্রাসা মাঠে ফুটবল খেলে একাডেমিক ভবনের গ্লাস ও সীমানা প্রাচীরের টিন ভেঙেছেন বলেও অভিযোগ। এতে মাদ্রাসার চারাগাছ ও ফুলের বাগানও নষ্ট হয়েছে।
এলাকাবাসীর একাংশের অনিয়মের অভিযোগ:
শিক্ষকদের পক্ষ থেকে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ১০ দফা অনিয়মের অভিযোগও উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে-
১. জাতীয় শহীদ মিনারের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ
২. মাদ্রাসার তহবিলের অর্থ আত্মসাৎ
৩. সরকারি উন্নয়ন ও সংস্কার বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় না করা
৪. ছাত্রাবাস সংস্কারের অনুদানের অর্থে অনিয়ম
৫. দীর্ঘদিন আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ না করা
৬. পুকুর, গাছসহ সম্পদের আয়ের হিসাব গোপন
৭. কর্মচারী নিয়োগে অর্থ লেনদেন
৮. পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ আদায়
৯. সরকারি বরাদ্দের অর্থ অপব্যবহার
১০. শিক্ষক ছুটি ও আর্থিক লেনদেনে অনিয়ম।
শিক্ষকরা এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, আর্থিক হিসাব নিরীক্ষা এবং প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে এসএম সাইফুজ্জামান সায়েম বলেন, “প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে শিক্ষকরা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন। সংশ্লিষ্টরা তাকে মাদ্রাসায় যেতে বলেছেন । কারও সাথে খারাপ ব্যবহার করেন নি। মাদ্রাসার সাথে জমির বিনিময় হয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে টিনের বেড়া দেয়া হয়েছে ।”
মাসুম বিল্লাহ বলেন, “মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অনুমতি নিয়েই মাদ্রাসা মাঠে খেলাধুলা করি।”
রাসেল নামের একজনের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ আনা হলে তিনি বলেন, “কোথাও অন্যায় দেখলে প্রতিবাদের জন্য ফেসবুকে শেয়ার করি।”
শিক্ষার্থী মাহিম, জিসান, নাজিমসহ কয়েকজন জানায়, বেতন ও ফি সাথে না থাকায় অধ্যক্ষের অনুমতি নিয়ে তারা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। আব্দুর রহমান অনুমতি না নিয়ে বাড়ি চলে গেছে।
সিনিয়র শিক্ষক এসএম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “কাউকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়নি। বের করে দিলে অন্যরা পরীক্ষা দিলো কিভাবে?”
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবদুল মান্নান বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শিক্ষকরা প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।