আজ ৮ জুলাই। ২০০৩ সালের এই দিনে চাঁদপুরের বড় স্টেশন ত্রিনদীর মোহনায় ডুবে গিয়েছিল যাত্রীবাহী লঞ্চ এম ভি নাসরিন-১। দুর্ঘটনার ২৩ বছর পেরিয়ে গেলেও স্বজন হারানোর বেদনা আজও তাড়া করে ফেরে শত পরিবারকে।
২০০৩ সালের ৮ জুলাই ঢাকা থেকে লালমোহনগামী এম ভি নাসরিন-১ লঞ্চটি চাঁদপুরের মেঘনায় নিমজ্জিত হয়। সরকারি হিসাব অনুযায়ী লঞ্চটির ধারণক্ষমতা ছিল ৪২৯ জন। কিন্তু সেদিন লঞ্চটিতে ছিল প্রায় দ্বিগুণ যাত্রী। সেদিন অন্য একটি লঞ্চের যাত্রা বাতিল হওয়ায় সেই লঞ্চের সব যাত্রী নাসরিন-১ এ উঠে পড়েন। যাত্রীর পাশাপাশি লঞ্চটিতে প্রচুর মালামালও ছিল।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, দুর্ঘটনার আগে লঞ্চটির দুটি ইঞ্জিনই বিকল হয়ে যায়। যে স্থানে নাসরিন-১ ডুবেছিল, তার কাছেই ১৯৪ সালে “দিনার” নামের আরেকটি লঞ্চও ডুবেছিল।
দুর্ঘটনার পর ২১৮ জন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। বাকিরা লঞ্চসহ মেঘনার অতল গভীরে তলিয়ে যান। সরকারি হিসাবে নিহত ১১০ জন ও নিখোঁজ ১৯৯ জন। অর্থাৎ মোট ৩০৯ জনের প্রাণহানি ঘটে। তবে বেসরকারি হিসাবে নিহতের সংখ্যা ৪০০ এর বেশি বলে ধারণা করা হয়। দুর্ঘটনায় লঞ্চটির মালিকও নিহত হন।
উদ্ধারকারী জাহাজ “হামজা” ও “রুস্তম” ১২ দিন টানা চেষ্টা করেও লঞ্চটি উদ্ধার করতে পারেনি।
দীর্ঘ ২৩ বছর পর সম্প্রতি হাইকোর্টের আদেশে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ১০ লাখ টাকা এবং জীবিত আহতদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এম ভি নাসরিন-১ দুর্ঘটনায় নিহত সকলের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।