চাঁদপুরে চাহিদার অর্ধেকও বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। গ্রাহক সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষার্থী, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বিশ্বকাপ ফুটবলের দর্শক—ভোগান্তিতে পড়েছে সব শ্রেণির মানুষ।
চাঁদপুর জেলাজুড়ে দিন-রাত ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং চলছে। চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতায় হাজীগঞ্জ, কচুয়া ও শাহরাস্তি উপজেলায় পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ৮৫ মেগাওয়াট। সেখানে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৪০ থেকে ৪৫ মেগাওয়াট। অন পিকআওয়ারে ৬০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ মেগাওয়াট।
একই চিত্র চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর আওতাধীন এলাকায় চাঁদপুর সদর, মতলব দক্ষিণ, মতলব উত্তর, ফরিদগঞ্জ ও হাইমচর উপজেলায় পিক আওয়ারে চাহিদা ১১০ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ মিলছে ৪৫ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট। অন পিকআওয়ারে ৮০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ মেগাওয়াট। ( চক আকারেরও দেখাতে পারেন)
এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখতে না পেরে হতাশ ক্রীড়ামোদীরা।
- বাসা -বাড়িতে ফ্রিজের খাবার নষ্ট হওয়ার অভিযোগ গৃহিণীদের। ব্যবসা-বাণিজ্যও স্থবির হয়ে পড়েছে। জেনারেটর চালিয়ে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে প্রাইভেট হাসপাতাল, দোকানদার ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের।
লোডশেডিং, ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের ক্ষোভে সম্প্রতি জেলার ফরিদগঞ্জে একটি সাব-স্টেশনে ঢুকে এক কর্মকর্তাকে তুলে নিয়ে মারধর করেছে গ্রামবাসী। পরবর্তীতে ধানুয়া গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে হামলা শিকারের ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে সোমবার ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. সাইফুল আলম বদলী করা হয়েছে। পাশাপাশি সকল সাব-স্টেশনে নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশ সুপারের কাছে স্বরণাপন্ন হয়েছেন চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ -২ এর কর্তৃপক্ষ।
অপরদিকে , জাতীয় গ্রিডে ফুয়েল সমস্যা থাকা ও প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ না পাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় বাধ্য হয়ে গ্রাম ও শহরে সমবন্টন করে লোডশেডিং দেয়ার কথা জানান চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর কর্তৃপক্ষ।
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এ ৩ লাখ ৮০ হাজার ও সমিতি-২ এর আওতায় ৪ লাখ ৮০ হাজারসহ মোট আট উপজেলায় গ্রাহক রয়েছে আট লাখ ৬০ হাজার।