বাংলাদেশের স্থাপত্যশিল্পের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ও চাঁদপুরের কৃতি সন্তান স্থপতি হালি মোস্তফা। জাতীয় সংসদ ভবন থেকে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ—গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্থাপনায় রয়েছে তাঁর অনবদ্য অবদান।
জন্ম ও প্রাথমিক পরিচয়:
হালি মোস্তফা ১৯৪৭ সালের ২ জানুয়ারি চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার নাসিরকোট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
লুই আই কানের সহযোগী:
বিশ্বখ্যাত স্থপতি লুই আই কান যখন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবনের নকশা ও বাস্তবায়ন করছিলেন, হালি মোস্তফা তাঁর অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করেন।
উল্লেখযোগ্য স্থাপত্যকর্ম:
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে ঢাকার মিরপুরে নির্মিত *শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ*-এর স্থপতি তিনি।
এছাড়া তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে:
*১.* রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় কলা ভবন (১৯৭১)
*২.* মিরপুরস্থ জাতীয় প্রতিরক্ষা কলেজ কমপ্লেক্স (১৯৭৪)
*৩.* খামারবাড়ি প্রকল্পের কৃষি ভবন
*৪.* চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীনিবাস ও হাউস টিউটর কোয়ার্টার (১৯৯৬)
*৫.* বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস (১৯৯৭)
*৬.* ঢাকা সেনানিবাসের সম্মেলন কেন্দ্র কমপ্লেক্স (১৯৯৬)
*৭.* বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির অনুষদ ভবন, ভিআইপি হোস্টেল ও অতিথি ভবন
*৮.* চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় ও চতুর্থ একাডেমিক ভবন (১৯৯৮)
*৯.* জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক অনুষদ ভবন (১৯৯৮)
*১০.* কুমিল্লা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, কুমিল্লা ক্লাব এবং নাসিরকোট স্মৃতিসৌধ
সাহিত্যকর্ম:
স্থপতি হওয়ার পাশাপাশি সাহিত্যেও ছিল তাঁর সাবলীল বিচরণ। কবিতা, ভ্রমণকাহিনী, বিদেশী সাহিত্যের অনুবাদ এবং সমাজ ও নগর-ভাবনা নিয়ে একাধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন। প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য _হালী মোস্তফার স্থাপত্য ভাবনা_ ও _নগর চিন্তা ও ঐতিহ্যের সংস্কৃতি_।
স্থপতি হালি মোস্তফা ২০০০ সালে মৃত্যুবরণ করেন। দেশের স্থাপত্যশিল্পে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।