যে কোন অপারেশন মানেই শুধু কাটা আর জোড়া লাগানো না। আধুনিক চিকিৎসা শাস্ত্রে অপারেশন এর ৫ টি ধাপ বিদ্যমান, যার প্রত্যেকটি ধাপের গুরুত্ব অপরিসীম।
আজ এগুলা নিয়েই সামান্য কথা বলার চেষ্টা করব।
১. প্রাক-অস্ত্রোপচার প্রস্তুতি (Pre-operative check up): অপারেশনের আগের ধাপ। রোগীকে কাউন্সেলিং করা হয়, প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষা, ইসিজি বা ইমেজিং করা হয় এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও অবস্থা নিশ্চিত করা হয়।
২. অ্যানেস্থেসিয়া (Anesthesia): অপারেশনের ঠিক আগে বা অপারেশন থিয়েটারে (OT) ঢোকার পর রোগীকে অজ্ঞান করা বা শরীরের নির্দিষ্ট অংশ অবশ করার ওষুধ দেওয়া হয়, যাতে ব্যথামুক্তভাবে অপারেশন করা যায়।
৩. অপারেশনকালীন (Intra-operative): সার্জন এবং তাঁর মেডিকেল টিম মূল অস্ত্রোপচার বা কাটা-ছেঁড়ার কাজটি সম্পন্ন করেন।
৪. অ্যানেস্থেসিয়া-পরবর্তী (Post-anesthesia recovery): অপারেশন শেষে রোগীকে পোস্ট-অপারেটিভ কেয়ার বা রিকভারি রুমে রাখা হয়, যেখানে চেতনা ফেরার পর তাঁর শারীরিক অবস্থা (যেমন- রক্তচাপ, হার্টবিট) নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
৫. অপারেশন-পরবর্তী পরিচর্যা (Post-operative recovery): রোগীকে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। এই ধাপে ক্ষতস্থান পরিষ্কার রাখা, ব্যথানাশক ওষুধ, সঠিক খাদ্যতালিকা এবং হাঁটাচলার নিয়মাবলি অনুসরণ করে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলা হয়।
একটি সফল অপারেশন এর জন্য একজন বিশেষজ্ঞ দক্ষ সার্জন এর পাশাপাশি একজন বিশেষজ্ঞ অবেদনবিদ বা এনেস্থিসিয়ার ডাক্তার প্রয়োজন।
এনেস্থিসিয়া বিষয়টি চিকিৎসা শাস্ত্রে অতন্ত জটিল সংবেদনশীল বিষয়। যেখানে ভুল করার কোন উপায় নেই।
সঠিক সময়ে সঠিক মাত্রায় সঠিক ওষুধের প্রয়োগ এর পাশাপাশি প্রয়োজন তাৎক্ষণিক ডিসিশন নেয়ার ক্ষমতা। যা কেবল একজন বিশেষজ্ঞ ও দক্ষ এনেস্থিসিওলজিস্ট এর পক্ষেই সম্ভব।
একজন রোগী অপারেশন পূর্ববর্তী চেক আপ থেকে শুরু করে পোস্ট অপারেটিভ কেয়ার পর্যন্ত এনেস্থিসিয়া ডাক্তার এর তত্তাবধানে থাকে। অপারেশন পরবর্তী ২৪ ঘন্টা বিশেষ করে প্রথম তিন চার ঘন্টা রোগী সাধারণত পোস্ট অপারেটিভ রুমে নিবিড় পর্যবেক্ষনে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও দক্ষ নার্সের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়।
অপারেশন এই ধাপগুলা আমরা সঠিকভাবে পালন করলে
দুর্ঘটনা অনেকাংশেই কমানো সম্ভব।আর এই ধাপগুলোর যেকোন পর্যায়ে গুরুত্ব না দেয়া মানেই বিপদ ডেকে আনা।
প্রতিটি মৃত্যুই দু:খজনক। পৃথিবীর সব দেশেই অপারেশন ও এনেস্থিসিয়া রিলেটেড জটিলতায় রোগীর ম্ৃত্য হয় তবে সঠিক ধাপগুলা মেইনটেইন করায় সেই দুর্ঘটনার হার নিতান্তই কম।
আমি আশা করব হাজিগঞ্জ সহ বাংলাদেশের প্রতিটি হাসপাতাল সঠিক নিয়ম ও দক্ষ লোকবল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সহ পরিচালনা করবেন।
আল্লাহর পাক সবাইকে সুস্থ রাখুক।
Ahmed Tanvir Hasan
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা
হাজিগঞ্জ চাঁদপুর