চাঁদপুরের কৃতি সন্তান, মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগী এবং অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ আর নেই। রোববার (তারিখ) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানী ঢাকায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
তিনি স্ত্রী, দুই কন্যা ও এক পুত্রসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। ঢাকার শুক্রাবাদ মসজিদে জানাজা শেষে চাঁদপুরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর বাবা-মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়।
মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ চাঁদপুরের মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে প্রথম বিভাগে এসএসসি পাস করেন। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি এস এম হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন।
পরবর্তীতে ইপিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন এবং ফরিদপুরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। কর্মজীবনে তিনি ময়মনসিংহ ও মুন্সীগঞ্জের মহকুমা প্রশাসক (এসডিও), পটুয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি মিল্কভিটার ব্যবস্থাপক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শরীয়তপুরের নড়িয়া থানার ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি গোপনে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা যায়। স্বাধীনতা সংগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করেছিলেন।
সরকারি উদ্যোগে ইতালিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর তিনি ইতালির ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেন, যা পাঠকমহলে প্রশংসিত হয়।
তাঁর জ্যেষ্ঠ কন্যা ইশরাত নাসিমা হাবিব বর্তমানে নোয়াখালী জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অপর কন্যা ইশরাত তানিয়া হাবিব Pubali Bank-এ সহকারী মহাব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহর মৃত্যুতে বিভিন্ন মহল গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছে।