হাজীগঞ্জ পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার ইদ্রিস মিয়াকে নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানান অপপ্রচার দেখা গেছে। একাধিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন উঠে ইঞ্জিনিয়ার ইদ্রিস মিয়া টানা ২০ বছর একই কর্মস্থলে আছে কিভাবে?
সরকারি নীতি অনুযায়ী একজন সরকারি কর্মকর্তা একইস্থানে টানা ৩ থেকে ৫ বছর কর্মরত থাকতে পারেন। তাও সেটি যদি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে বদলির আদেশ হয়। কিন্তু গেলো ২০ বছরে হাজীগঞ্জ পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার ইদ্রিস মিয়াকে এক বারের জন্যও বদলির আদেশ দেয়নি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।
এবার প্রশ্ন উঠে ২০ বছর পরই ইদ্রিস মিয়ার বিরুদ্ধে কেনো লেখা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে? সম্প্রতি হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড মকিমাবাদ এলাকায় ড্রেনেজ নির্মাণ কাজ করতে গিয়ে এক প্রবাসীর সাথে দন্ধ হয় ইদ্রিস মিয়ার। কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ওই প্রবাসী দেওয়াল নির্মাণ করার অভিযোগ রয়েছে পৌরসভা থেকে। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বার্থে দেওয়াল ভেঙে ড্রেনেজ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়।
এর পর থেকেই ওই প্রবাসী চড়াও হন ইঞ্জিনিয়ার ইদ্রিস মিয়ার উপর। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইদ্রিস মিয়ার বিরুদ্ধে করা পোস্টে রেফারেন্স দেওয়া হয় ওই প্রবাসীর। তাহলে বিষয়টি যে এ প্রবাসীর ইন্দোনে হচ্ছে তা পরিষ্কার।
এবার ২০ বছর একই কর্মস্থলে থাকার পরও কোনো অভিযোগ স্থানীয়রা করেন কিনা তার খোঁজ নেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ইমাম হোসেন, মোহসীন পাটোয়ারী ও মাওলানা আমান উল্ল্যাহ খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ইঞ্জিনিয়ার ইদ্রিস মিয়াকে পৌরসভায় দেখছেন তারা। কখনও তার বিরুদ্ধে কোনো খারাপ মন্তব্য শুনেননি। এবং অসহযোগিতা পাননি।
২০ বছর একই কর্মস্থলে থাকা প্রসঙ্গে তারা বলেন, এতোবছর একই কর্মস্থলে তিনি কিভাবে আছেন এটাতো ওনার সমস্যা না। সমস্যা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের। মন্ত্রণালয় কেনো ওনাকে এতো বছর এখানে রেখেছে। উনি একজন ভালো মানুষ বলেই একই স্থানে রাখা হয়েছে। যারা ইদ্রিস মিয়ার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করেছে তাদের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় একাংশ।
এদিকে অভিযুক্ত ইঞ্জিনিয়ার ইদ্রিস মিয়া বলেন, ২০০৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর এখানে যোগদান করেন তিনি। এরপর ২০১২ সালে একই সাথে দুইজনের পদোন্নতি হলে একজনকে চলে যেতে হয়৷ এরপর তাকে বদলির কোনো আদেশ দেওয়া হয়নি। তবে যেকোনো সময় বদলির আদেশ হলে তিনি চলে যেতে রাজি আছেন।